কুড়িগ্রামে গ্রেপ্তার এড়াতে বাড়ির ছাদ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে আহত হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপপ্রচার সম্পাদক ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মিনহাজুল ইসলাম আইয়ুব। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ছাদ থেকে নামার সময় টিনের বেড়ার ওপর পড়ে তিনি আহত হন। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে এবং গ্রেপ্তার দেখায়।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সন্ন্যাসী গ্রামে আইয়ুবের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আইয়ুবের বিরুদ্ধে জুলাইয়ের শহীদ আশিক হত্যা মামলাসহ দুটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। মামলা দুটির নম্বর জিআর-৩১৯/২৪ (কুড়িগ্রাম) ও জিআর-৩২১/২৪ (কুড়িগ্রাম)। এসব মামলায় তিনি পলাতক ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সদর থানার একটি দল সন্ন্যাসী গ্রামে আইয়ুবের বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশ বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে পুলিশ বাড়ির ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে আইয়ুব ছাদ দিয়ে পালানোর উদ্যোগ নেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির পেছনের দিকে ছাদ থেকে নামার সময় তিনি টিনের বেড়ার ওপর পড়ে যান। এতে তাঁর পায়ের আঙুল কেটে যায় এবং পায়ের হাড় ভেঙে যায়। পরে পুলিশ আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, আইয়ুবের বিরুদ্ধে দুটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁর নিজ বাড়িতে অবস্থানের খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি ছাদ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। সে সময় পড়ে গিয়ে আহত হলে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মিনহাজুল ইসলাম আইয়ুব কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপপ্রচার সম্পাদক ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে আইয়ুবকে কুড়িগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এগোবে।


