ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় গবাদিপশুর ঘাস কাটার বৈদ্যুতিক মেশিনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোরে উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। একই ঘটনায় পরিবারের সদস্য, স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতরা হলেন মাধবপুর গ্রামের অমরেন্দ্র নাথ ভৌমিক (৭০) ও তাঁর স্ত্রী মিনা ভৌমিক (৬০)। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ওই গ্রামে বসবাস করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো বুধবার ভোরে অমরেন্দ্র নাথ গবাদিপশুর জন্য ঘাস কাটতে গোয়ালে যান। সেখানে বৈদ্যুতিক মেশিনের সাহায্যে ঘাস কাটার সময় কোনো একপর্যায়ে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁর স্ত্রী মিনা ভৌমিক স্বামীকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে যান। এ সময় তিনিও বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে গুরুতরভাবে আক্রান্ত হন।
পরে স্বজনেরা দ্রুত দুজনকে উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আসাদুজ্জামান জোহা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অমরেন্দ্র নাথ ও মিনা ভৌমিককে মৃত ঘোষণা করেন।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির মোল্লা স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘাস কাটার বৈদ্যুতিক মেশিন ব্যবহারের সময়ই দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে ঠিক কী কারণে তাঁরা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন, মেশিনে বৈদ্যুতিক ত্রুটি ছিল কি না কিংবা সংযোগ বা তারে কোনো সমস্যা ছিল কি না, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বাড়িতে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে অসতর্কতা খুব দ্রুত প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে ঘাস কাটার মতো বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহারের আগে এর তার, সংযোগ, সুইচ ও অন্যান্য অংশ ভালোভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কোনো যন্ত্রে ত্রুটি দেখা দিলে মেরামত না করে সেটি ব্যবহার না করার পরামর্শও দিয়েছেন তাঁরা।
একসঙ্গে স্বামী ও স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় মাধবপুর গ্রামে নেমে এসেছে শোকের আবহ। প্রতিবেশী ও স্বজনেরা জানান, এমন আকস্মিক মৃত্যু তাঁদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পরিবারের আপন দুই সদস্যকে একই দুর্ঘটনায় হারিয়ে স্বজনেরা শোকাহত হয়ে পড়েছেন।


