গাজীপুরের টঙ্গীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকর্মীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৩০ আগস্ট) টঙ্গী পশ্চিম ও টঙ্গী পূর্ব থানার পুলিশ পৃথকভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে কয়েকজনের ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের পদে থাকার তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। তবে টঙ্গী পূর্ব থানায় গ্রেপ্তার হওয়া একজনের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ বা মামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গী পশ্চিম থানার এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—বড় দেওরা এলাকার মণ্ডল মার্কেটের বাসিন্দা মো. ফারুক (২৮), শেরপুরের ঝিনাইগাতী এলাকার আলামিন (৩১), নোয়াখালীর মাইজদী এলাকার সাকিবুল হোসেন ওরফে শাকিব (১৯), ঢাকার দোহার এলাকার শিহাব (২৭) এবং নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ এলাকার মিনহাজ মাসুম (২৮)।
পুলিশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ফারুক ও আলামিন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। সাকিবুল হোসেন টঙ্গীর ৫১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে মিনহাজ মাসুম গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ছিলেন। গ্রেপ্তার শিহাবের কোনো সাংগঠনিক পদ সম্পর্কে পুলিশ কোনো তথ্য দেয়নি।
এদিকে, টঙ্গী পূর্ব থানার মরকুন মাস্টারপাড়া এলাকা থেকে মো. মতিন (৪৫) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কোন মামলা বা কী ধরনের অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি।
পুলিশের এই অভিযান এমন সময়ে হলো, যখন টঙ্গীসহ গাজীপুর মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের নজরদারি জোরদার রয়েছে। বিশেষ করে নাশকতা, সহিংসতা কিংবা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে—এমন কর্মকাণ্ড ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
টঙ্গী পশ্চিম থানায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী নির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে এবং কোন মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রকৃতি ও ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতার মাত্রা আদালতে উপস্থাপিত নথি ও তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুল আলম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। তাঁদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের আইন অনুযায়ী আদালতে হাজির করা হবে। এরপর আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা মানেই তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায় নির্ধারণের বিষয়টি তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। ফলে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের ওপরই নির্ভর করবে।



