সৌরভ গাঙ্গুলিই বদলে দিয়েছিলেন ভারতীয় ফুটপ্রিন্ট, দাবি দীপ দাশগুপ্তের

আগ্রাসী মনোভাব ও প্রতিপক্ষের স্লেজিংয়ের চোখে চোখ রেখে জবাব দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করে সৌরভ গাঙ্গুলিই আধুনিক ভারতীয় ক্রিকেটের দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে দিয়েছিলেন। সম্প্রতি ভারতের সাবেক উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান দীপ দাশগুপ্ত এমনটাই মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, গাঙ্গুলির হাত ধরেই ভারতীয় দল নিজেদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন করে আবিস্কার করে এবং বিদেশের মাটিতেও দাপট দেখাতে শুরু করে।
দূরদর্শনের বিশেষ অনুষ্ঠান ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান ক্রিকেট শো’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের হয়ে ৮টি টেস্ট ও ৫টি ওয়ানডে খেলা দীপ দাশগুপ্ত সৌরভের নেতৃত্বকালের নানা স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে গাঙ্গুলির ব্যক্তিত্ব দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ের ভেতরে জয়ের খিদে ও আত্মবিশ্বাস ঢুকিয়ে দিয়েছিল।
পরিসংখ্যানের নিরিখে সৌরভ গাঙ্গুলি সব মিলিয়ে ১৯৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভারতের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর মধ্যে ভারত জিতেছে ৯৭টিতে, হেরেছে ৭৯টিতে এবং বাকি ১৫টি ম্যাচ ড্র হয়। লাল বলের ক্রিকেটে তিনি ছিলেন দেশের অন্যতম সফল দূরদর্শী অধিনায়ক। ৪৯টি টেস্টে তাঁর নেতৃত্বে ভারত ২১টি ম্যাচে জয় পায়, ১৩টিতে পরাজিত হয় এবং ১৫টি ম্যাচ ড্র হয়। পরবর্তীতে মহেন্দ্র সিং ধোনি ও বিরাট কোহলি অধিনায়কত্বে যে আক্রমণাত্মক ধারার সূচনা করেছিলেন, তার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন গাঙ্গুলিই।
বর্তমানে ভারতীয় দল প্রতিপক্ষের মাঠে যে নির্ভীক ও বিনাবাক্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার মানসিকতা দেখায়, তার বীজ বোনা হয়েছিল ২০০১ থেকে ২০০৩-০৪ সালের ঐতিহাসিক অস্ট্রেলিয়া সফরের সময়ে। দাশগুপ্তের মতে, এই সময়ের মধ্যেই ড্রেসিংরুমের আবহে এবং খেলোয়াড়দের চারিত্রিক দৃঢ়তায় স্পষ্ট পরিবর্তন এসেছিল।
স্মৃতিচারণ করে দাশগুপ্ত জানান, আগে ভারতীয় দল প্রতিপক্ষের স্লেজিং সহ্য করে নিজেদের রাগ চাপা রাখত এবং কেবল পারফরম্যান্স দিয়ে জবাব দেওয়ার চেষ্টা করত। কিন্তু সৌরভ অধিনায়ক হওয়ার পর কৌশল বদলে যায়। সৌরভের ডাকনাম ছিল ‘মহারাজ’, আর তাঁর ভেতরে সবসময় এই আত্মবিশ্বাস কাজ করত যে মাঠে সেই সেরা। তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে নরম মেজাজে ক্রিকেট খেলার দিন শেষ। প্রতিপক্ষ স্লেজিং করলে বা মানসিক চাপ সৃষ্টি করলে মাঠেই সাথে সাথে তার কড়া জবাব দেওয়া শুরু করে দল।
সৌরভের হাত ধরে ভারতীয় ক্রিকেটের বহু ঐতিহাসিক সাফল্য এসেছে। তাঁর অধিনায়কত্বেই ২০০১ সালে ঘরের মাঠে বিখ্যাত বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি জয় করে ভারত। এছাড়া ২০০২ সালের ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি জয়, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথভাবে ২০০২ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয় এবং ২০০৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়া তাঁর মেয়াদের অন্যতম প্রধান মাইলফলক। বিদেশেও দল হিসেবে ভারতের পারফরম্যান্সে বড় পরিবর্তন আসে, যার জ্বলন্ত প্রমাণ ২০০২ সালে লিডস টেস্ট এবং ২০০৩ সালে অ্যাডিলেড টেস্টে ভারতের ঐতিহাসিক ও স্মরনীয় জয়।
Tags :

মোঃ সাকিব হোসেন | উপ-সম্পাদক | খবরওয়ালা বাংলা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।