পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সকালে একটি ট্রাক বালিপাড়ার দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে ত্রিশালের দিকে আসছিল যাত্রীবাহী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। ঠাকুরবাড়ি মোড়ের কাছাকাছি পৌঁছালে যান দুটির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা আহতদের উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সিএনজির দুই যাত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী এক পুরুষ ও প্রায় ৪০ বছর বয়সী এক নারী রয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
দুর্ঘটনায় আহত চারজন হলেন সিএনজিচালক ফয়জুল, বয়স ৩৪ বছর; রুবেল, ৩০; হৃদয়, ২২; এবং নাবিল, ২২। তাদের সবাইকে প্রাথমিকভাবে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে আহতদের মধ্যে ফয়জুল ও রুবেলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্য দুই আহত ব্যক্তিকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ত্রিশাল-বালিপাড়া সড়কটি বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চলাচলে ব্যস্ত থাকে। এ ধরনের সড়কে দ্রুতগতির যানবাহন, ওভারটেকিং এবং বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনের মধ্যে পর্যাপ্ত দূরত্ব না থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে এই দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশের তদন্তের পর বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।
দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাকে শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ট্রাকটি শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।
ত্রিশালা থানার উপপরিদর্শক রেজাউল করিম জানান, দুর্ঘটনায় নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ট্রাকচালক ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
এ ঘটনায় সড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায় নির্ধারণে পুলিশ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে। নিহত ও আহতদের পরিচয় নিশ্চিত হলে তাদের স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হবে।


