নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকার আলোচিত হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ও তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী কালাই সবুজ এবং তার অন্যতম প্রধান সহযোগীকে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল এবং সাত রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে রাজধানী ঢাকার ডেমরা থানার কোণাপাড়া ও রূপগঞ্জের রূপসী এলাকায় পৃথক যৌথ অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে আসামিদের নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার কালাই সবুজ রূপগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে গ্রেপ্তার তার সহযোগী এজাজুল হক ভুলতা মাঝিপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, কালাই সবুজ দীর্ঘদিন ধরে রূপগঞ্জসহ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চলে অপহরণ, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। তিনি মূলত রূপগঞ্জ এলাকার অপরাধ জগতের অন্যতম নিয়ন্ত্রণকারী বা তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। তাঁর বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় অন্তত সাতটি হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মোট ২৬টি মামলা বিচারাধীন ও তদন্তাধীন রয়েছে। এর মধ্যে একটি বহুল আলোচিত হত্যা মামলায় আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তবে সাজা এড়াতে দীর্ঘদিন ধরে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি সীমান্ত বা পাশের এলাকায় লুকিয়ে থেকে মাঝেমধ্যে রূপগঞ্জে এসে অপরাধ ঘটিয়ে আবার আত্মগোপনে চলে যেতেন।
পুলিশের তদন্ত দল জানায়, গোপন সূত্রে সুনির্দিষ্ট খবর পেয়ে বুধবার রাতে রূপগঞ্জ থানা-পুলিশের একটি চৌকস দল রাজধানী ঢাকার সীমান্তবর্তী ডেমরা কোণাপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে কালাই সবুজকে লোডেড বিদেশি পিস্তল ও সাত রাউন্ড গুলিসহ হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়। পরে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রাতেই রূপগঞ্জের রূপসী এলাকায় দ্বিতীয় অভিযান পরিচালিত হয়। সেখান থেকে তাঁর সহযোগী এজাজুলকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। এজাজুলের বিরুদ্ধেও রূপগঞ্জ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে কালাই সবুজের অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনায় সহায়তা করে আসছিলেন।
নারায়ণগঞ্জের আঞ্চলিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের দমনে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে উল্লেখ করে পুলিশ কর্মকর্তা এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় নতুন করে অস্ত্র আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।


