বাগেরহাটে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বিকাশের এক ডিস্ট্রিবিউশন সেলস অফিসারের (ডিএসও) কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা, মুঠোফোন ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের বৈটপুর হেরেমের মোড় থেকে ভদ্রপাড়া খেয়াঘাটের মাঝামাঝি একটি ফাঁকা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ডিএসওর নাম সানি জাবির বাধন। তিনি বাগেরহাট নাগেরবাজার এলাকার একটি বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। এ ঘটনায় বাগেরহাট মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিকাশের ডিস্ট্রিবিউটর প্রতিষ্ঠান জাবেদ এন্টারপ্রাইজের মহাব্যবস্থাপক মো. হুমায়ুন কবীর কুদরতী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একটি ব্যাগে ৩ লাখ টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে করে দায়িত্ব পালন করতে বের হন সানি জাবির বাধন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর বেলা ১১টার দিকে তিনি বেমরতা ইউনিয়নের বৈটপুর হেরেমের মোড় থেকে ভদ্রপাড়া খেয়াঘাটের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে একটি তুলনামূলক ফাঁকা জায়গায় পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা ছয়জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তার গতিরোধ করে।
সানি জাবির বাধনের ভাষ্য, মোটরসাইকেল তিনটি দিয়ে তাকে ঘিরে ফেলার পর দুর্বৃত্তরা ভয়ভীতি দেখিয়ে তার সঙ্গে থাকা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। একই সময় তার পকেটে থাকা আরও ২ হাজার টাকা ও একটি মুঠোফোনও নিয়ে যায় তারা। পরে তার মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে সেটি পাশের একটি পুকুরে ফেলে দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ভুক্তভোগী বলেন, ছিনতাইকারীদের মধ্যে তিনজন হেলমেট পরা ছিল। অন্য তিনজনের মুখ খোলা থাকলেও তাদের কাউকেই তিনি আগে থেকে চিনতেন না। ফলে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সানি জাবির বাধন বলেন, বৈটপুর হেরেমের মোড় থেকে ভদ্রপাড়া খেয়াঘাটের মাঝামাঝি ফাঁকা জায়গায় যাওয়ার সময় তিনটি মোটরসাইকেলে ছয়জন ব্যক্তি তার সামনে আসে। গাড়িগুলো দিয়ে তাকে ঘিরে ফেলার পর ব্যাগ নিয়ে নেয়। এরপর মুঠোফোন ও পকেটে থাকা টাকাও ছিনিয়ে নিয়ে মোটরসাইকেলের চাবি পুকুরে ফেলে তারা চলে যায়।
এদিকে, এই ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে বাগেরহাট শহরে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে এক ব্যাংক এজেন্টকর্মীকে তুলে নিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মঙ্গলবার দুপুরের আগে শহরের আল-ইসলাহ মোড় এলাকায় ৪ থেকে ৫ জন দুর্বৃত্ত ডিবি পরিচয়ে ব্যাংক এজেন্টের কর্মী মো. সাজ্জাদকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে গাড়ির ভেতরে তাকে মারধর করে সঙ্গে থাকা টাকা নিয়ে মোল্লাহাটের আগে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায়ও থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
পরপর দুই ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের নিয়মিত নগদ অর্থ বহন করতে হওয়ায় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে পৃথক দুটি ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার বা শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।


