শরীয়তপুর সদর উপজেলায় একটি ছয়তলা আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছে নুর হোটেল ইন্টারন্যাশনালে এ আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনটির ভেতরে ১৭ জন অবস্থান করছিলেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সহায়তায় তাদের সবাইকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে হোটেলের নিচতলার পার্কিং এলাকায় থাকা একটি ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে গাড়িটির একটি চাকা বিস্ফোরিত হয়। এরপর গাড়ির ভেতরে থাকা সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হলে আগুন দ্রুত পার্কিং এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে তা ভবনের বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে যায়।
আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় হোটেলে থাকা লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। নিচ দিয়ে বের হওয়ার পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলে তারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ভবনের ছাদে উঠে যান। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে শরীয়তপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রায় ২০ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। একই সঙ্গে ছাদে আটকে থাকা ১৭ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজন আহত হন। পরে আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অগ্নিকাণ্ডে হোটেলের নিচতলার পার্কিংয়ে থাকা ১২টি মোটরসাইকেল ও একটি ব্যক্তিগত গাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। তবে আগুনে ভবনের অন্যান্য অংশের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এবং মোট আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী আলিম কাজি জানান, পার্কিংয়ে থাকা গাড়িটি থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে তারা দেখতে পান। প্রথমে গাড়ির চাকা বিস্ফোরিত হওয়ার পর লোকজন দূরে সরে যান। কিছুক্ষণ পর গাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে আশপাশের ভবনও কেঁপে ওঠে বলে তিনি জানান। এরপর দ্রুত আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।
পালং মডেল থানার উপপরিদর্শক সুধাংশু সরকার বলেন, বেতারযোগে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং ভবনের ওপরের অংশে আটকে থাকা লোকজনকে বের করে আনার কাজ করা হয়। এ সময় পার্কিংয়ে থাকা ১২টি মোটরসাইকেল ও একটি ব্যক্তিগত গাড়ি পুড়ে যাওয়ার বিষয়টিও তিনি জানান।
শরীয়তপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিদর্শক শংকর বিশ্বাস বলেন, রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে নিচতলার গাড়ি রাখার স্থানে আগুনের তীব্রতা দেখতে পান। আগুনের উত্তাপ ও ধোঁয়ার কারণে শুরুতে ওপরের তলায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। পরে প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় এবং ছাদে আশ্রয় নেওয়া ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে আরও যাচাই প্রয়োজন।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাতের বেলায় ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। আগুনের সূত্রপাত, সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণ এবং ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, সেসব বিষয়ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী তদন্তে স্পষ্ট হতে পারে।


