নারী এশিয়া কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বড় জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা নিগার সুলতানা জ্যোতির দল এবার আরও কঠিন প্রতিপক্ষের সামনে। লক্ষ্য একটাই—জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালের পথে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করা।
বাংলাদেশ সময় রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হবে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার ম্যাচ। দুবাইয়ের মাঠে নামার আগে আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। কারণ টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই ইন্দোনেশিয়াকে ৭১ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। সেই ম্যাচ শুধু জয়ই এনে দেয়নি, দলের ক্রিকেটারদের জন্য কন্ডিশন ও উইকেট সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতাও দিয়েছে।
প্রথম ম্যাচের সেই অভিজ্ঞতাকেই এবার কাজে লাগাতে চান বাংলাদেশের ব্যাটার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। ম্যাচের আগে তিনি জানিয়েছেন, দুবাইয়ে এসে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে খেলার মাধ্যমে দলের ক্রিকেটাররা মাঠের পরিবেশ ও উইকেটের আচরণ সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন।
জুয়াইরিয়ার ভাষায়, এশিয়া কাপ খেলতেই বাংলাদেশ দল দুবাইয়ে এসেছে। প্রথম ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ভালোভাবে জয় পাওয়ার পাশাপাশি মাঠের পরিবেশ ও উইকেটের আচরণ সম্পর্কেও তারা ধারণা নিতে পেরেছেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সেই অভিজ্ঞতা দলের কাজে দেবে বলে মনে করছেন তিনি।
তবে প্রতিপক্ষ হিসেবে শ্রীলঙ্কা যে ইন্দোনেশিয়ার চেয়ে কঠিন, সেটিও জানে বাংলাদেশ। চলতি টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত দুই ম্যাচ খেলে দুটিতেই জয় পেয়েছে লঙ্কানরা। ফলে অপরাজিত থাকা দলটির বিপক্ষে বাংলাদেশের সামনে বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।
এই ম্যাচের গুরুত্বও তাই আলাদা। শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারলে সেমিফাইনালের দৌড়ে বাংলাদেশ অনেকটাই এগিয়ে যাবে। সেই লক্ষ্যেই জয়ের বিকল্প দেখছেন না জুয়াইরিয়া। তার মতে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় দলের সেমিফাইনালের পথ আরও পরিষ্কার করবে এবং টুর্নামেন্টে নির্ধারিত লক্ষ্যের কাছাকাছি নিয়ে যাবে।
বাংলাদেশ দলের পরিকল্পনা নিয়ে জুয়াইরিয়া বলেন, যাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তাকে সেটি ঠিকভাবে পালন করতে হবে। নিজেদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা থাকবে সবার। ফল নিজেদের পক্ষে আনতে হলে দলীয় পরিকল্পনাই যে মূল চাবিকাঠি, তার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে তার কথায়।
প্রথম ম্যাচে অবশ্য ব্যাট হাতে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি জুয়াইরিয়া। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে নিজের ইনিংস বড় করতে না পারলেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই ভুল শুধরে নিতে চান এই ওপেনার। দলের হয়ে ইনিংসের শুরুটা ভালো করার দায়িত্ব থাকবে তার কাঁধে।
নিজের ব্যক্তিগত লক্ষ্য জানিয়ে জুয়াইরিয়া বলেন, ওপেনার হিসেবে পাওয়ার প্লের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভালো ও বড় একটি ইনিংস খেলতে চান তিনি। ম্যাচটি দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেছেন এই ব্যাটার।
বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটির আরেকটি বড় দিক হলো আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা। প্রথম ম্যাচে ৭১ রানের জয় দলের শুরুটা যেমন ভালো করেছে, তেমনি পরের ম্যাচে আরও ভালো করার প্রত্যাশাও তৈরি করেছে। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই আত্মবিশ্বাসকে মাঠের পারফরম্যান্সে রূপ দিতে হবে।
একদিকে অপরাজিত শ্রীলঙ্কা, অন্যদিকে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা বাংলাদেশ—দুই দলের লড়াইয়ে তাই উত্তেজনার যথেষ্ট উপাদান রয়েছে। বাংলাদেশের ব্যাটারদের সামনে থাকবে বড় রান তোলার চ্যালেঞ্জ, আর বোলারদের দায়িত্ব হবে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। ফিল্ডিংয়েও সামান্য ভুলের সুযোগ থাকবে না।
বিশেষ করে ম্যাচের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। জুয়াইরিয়া ও তার সঙ্গী ওপেনার যদি পাওয়ার প্লেতে ইতিবাচক শুরু এনে দিতে পারেন, তাহলে পরের ব্যাটারদের জন্য ইনিংস গড়ার সুযোগ তৈরি হবে। একইভাবে বোলাররা শুরুতেই উইকেট এনে দিতে পারলে শ্রীলঙ্কার ওপর চাপ বাড়ানো সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে আজকের ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য কেবল আরেকটি গ্রুপ ম্যাচ নয়। সেমিফাইনালের স্বপ্নকে আরও বাস্তব করে তুলতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ই এখন নিগার সুলতানা জ্যোতির দলের প্রধান লক্ষ্য। নিজেদের পরিকল্পনা ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে প্রথম ম্যাচের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের সামনে।
জুয়াইরিয়ার মতোই দলের প্রত্যাশা—মাঠে নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়া এবং জয় নিয়ে ফিরতে চেষ্টা করা। এখন সেই প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার অপেক্ষা।



