হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন স্পিডবোট ড্রোনে আইআরজিসির বিধ্বংসী হামলা

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির সুরক্ষিত জলসীমায় প্রবেশের চেষ্টা চালানো একটি মার্কিন সামরিক মানববিহীন স্পিডবোট ড্রোনে (ইউএসভি) সফল হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত এক কড়া বিবৃতিতে এই সামুদ্রিক অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আইআরজিসি।
ঘোষিত বিবৃতিতে আইআরজিসি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, তাদের নৌবাহিনীর সদস্যরা হরমুজ প্রণালির সুরক্ষিত এলাকায় অনধিকার প্রবেশের চেষ্টাকালে চালকবিহীন মার্কিন স্পিডবোট ড্রোনটিকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে শত্রুপক্ষের যেকোনো ধরনের সামরিক তৎপরতার ওপর ইরানি বাহিনী সার্বক্ষণিক ও অত্যন্ত সতর্ক নজরদারি রাখছে। ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে যেকোনো উস্কানিমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও অনমনীয় জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংস্থাটি।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে কঠোর ভাষায় জোর দিয়ে জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল এই হরমুজ প্রণালি বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ব্যবস্থাপনায় ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথে শত্রুপক্ষের যেকোনো আগ্রাসী পদক্ষেপের জবাব দিতে তারা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। মার্কিন বাহিনীকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তারা যুক্ত করে যে, এই অঞ্চল ত্যাগ করা এবং অব্যাহত উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা ছাড়া ওয়াশিংটনের সামনে আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।
এর আগে চলতি বছরের ২৬ মার্চ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত জলসীমায় প্রথমবারের মতো এই অত্যাধুনিক চালকবিহীন স্পিডবোট ড্রোন মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগন সূত্রে জানা যায়, মেরিল্যান্ডভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোবাল অটোনোমাস রিকোনায়েন্সেস ক্রাফট’-এর তৈরি এই ইউএসভিগুলো মূলত একই সঙ্গে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো এবং দূরনিয়ন্ত্রিত কামিকাজি বা আত্মঘাতী হামলার সক্ষমতা রাখে। এবারই প্রথম বিশ্ব সামরিক ইতিহাসে কোনো চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এ ধরনের ড্রোন স্পিডবোটের ব্যবহার প্রত্যক্ষ করল বিশ্ব।
জলপথের এই সাম্প্রতিক উত্তেজনার আগেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি লক্ষ্য করে কয়েকটি বড় ধরনের পদক্ষেপ নেয় আইআরজিসি। সম্প্রতি মার্কিন নৌবাহিনীর একটি বিমানবাহী রণতরী এবং একটি আধুনিক যুদ্ধজাহাজ বা ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল ইরানি বাহিনী। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইআরএনএ-এর মারফতে প্রকাশিত বিবৃতির মাধ্যমে আইআরজিসি দাবি করেছিল, তাদের সেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
আইআরজিসির দাবি অনুসারে, ওই দুটি মার্কিন রণতরী কৌশলগত জলসীমায় ইরানি নৌযানকে তাড়া করছিল এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক অবরোধ জোরদার করার চেষ্টা করছিল। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দুটি নৌযানে হামলার ঘটনা স্বীকার করায় নিজেদের অভিযানের সফলতা পুরোপুরি প্রমাণিত হয়েছে বলে মনে করে ইরানি সামরিক বাহিনী।
Tags :

সৌরভ বিশ্বাস | উপ-সম্পাদক | খবরওয়ালা বাংলা

https://bn.khaborwala.com/

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।