সিলেটের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চোরাচালানি মালামাল জব্দ করেছে বিজিবি। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (৪৮ বিজিবি) পরিচালিত এই অভিযানে উদ্ধার করা ভারতীয় ও বাংলাদেশী পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সীমান্ত সংলগ্ন একাধিক এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) দায়িত্বাধীন সীমান্তবর্তী এলাকা বাংলাবাজার, তামাবিল, সংগ্রাম, প্রতাপপুর, সোনারহাট এবং কালাইরাগ বিওপির (বর্ডার আউটপোস্ট) জওয়ানরা এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন। চোরাকারবারিরা সীমান্ত পার করে অবৈধ পণ্য আনা-নেওয়া করছে—এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়ে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন বিজিবি সদস্যরা। ভোররাতের দিকে পাচারকারীরা মালামাল নিয়ে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করলে তাদের চ্যালেঞ্জ করা হয়। এ সময় পাচারকারীরা মালপত্র ফেলে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা বিপুল পরিমাণ গরু, শাড়ি, জিরা, কসমেটিকস সামগ্রী, চকলেট ও কম্বল উদ্ধার করা হয়। একই সাথে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ পথে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া টি-শার্ট, সোয়েটার ও জিন্স প্যান্ট জব্দ করেন বিজিবি সদস্যরা। সব মিলিয়ে আটককৃত মালামালের দাপ্তরিক সিজার মূল্য ধরা হয়েছে ১ কোটি ৮৬ লাখ ১৮ হাজার ২৩০ টাকা।
রোববার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অভিযানের পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা, যেকোনো ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধ এবং মাদকদ্রব্য পাচার বন্ধে বিজিবির নিয়মিত আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবি কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, সীমান্ত এলাকার অখণ্ডতা রক্ষা এবং দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী সর্বদা তৎপর রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববারের সফল অভিযানে এসব মূল্যবান সীমান্ত চোরাচালানি মালামাল আটক করা সম্ভব হয়েছে। জব্দকৃত মালামাল আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


