দেশের সামগ্রিক আর্থিক খাতকে চাঙ্গা করতে এবং মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এক বিশাল উদ্যোগ নিয়েছে বেইজিং। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক ও বিমা খাতগুলোতে যৌথভাবে মোট ৫৪ বিলিয়ন ডলার (চীনা মুদ্রায় ৩৪৮ বিলিয়ন ইউয়ান) পুনঃমূলধন হিসেবে বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ও মূলধনের ঘাটতি মেটাতে চীনের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ সংক্রান্ত পৃথক বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
ঘোষিত এই মূলধন সহায়তা প্রকল্পের অংশ হিসেবে চীনের বৃহত্তম জীবন বিমা প্রতিষ্ঠান ‘চায়না লাইফ ইন্স্যুরেন্স গ্রুপ’ ৩৫ বিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ৫.২ বিলিয়ন ডলার) পাবে। একই সাথে ‘চায়না তাইপিং ইন্স্যুরেন্স গ্রুপ’ পাবে ৭ বিলিয়ন ইউয়ান। অন্যদিকে দেশের অন্যতম শীর্ষ বিমা সংস্থা ‘পিপলস ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি অফ চীন’ অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে এ-শেয়ার বিক্রি করে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ইউয়ান সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা সরাসরি তাদের মূলধন বাড়াতে ব্যবহৃত হবে। এ ছাড়া ‘চায়না এক্সপোর্ট অ্যান্ড ক্রেডিট ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন’ কোর ক্যাপিটাল বাড়াতে ১০ বিলিয়ন ইউয়ান এবং ‘চায়না রেইন্স্যুরেন্স গ্রুপ’ ৩ বিলিয়ন ইউয়ান সংগ্রহ করবে।
সাম্প্রতিক সময়ে সুদের হার ক্রমাগত নিম্নমুখী থাকায় দেশটির বিমা খাত মুনাফা অর্জনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও সলভেন্সি রেশিও আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। বেইজিংয়ের এই বিশাল মূলধন ঢালার পদক্ষেপ সরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেয়ারবাজারে দীর্ঘমেয়াদে অর্থ সরবরাহে সহায়তা করবে এবং ঝুঁকিগ্রস্ত ছোট বিমা সংস্থাগুলোকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ামক সংস্থাগুলোকে সমর্থন জোগাবে। চায়না লাইফ তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, সরকারের এই আর্থিক সহায়তা প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াবে এবং বাস্তব অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে সাহায্য করবে।
বিমা খাতের পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত তিন বৃহৎ ব্যাংককেও পুনর্গঠন ও মূলধন বৃদ্ধির পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে। ৩৪৮ বিলিয়ন ইউয়ান তহবিলের সিংহভাগ—অর্থাৎ ২৯০ বিলিয়ন ইউয়ান পাচ্ছে এই তিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক। চীনের অন্যতম বড় দুই বাণিজ্যিক ব্যাংক ‘অ্যাগ্রিকালচারাল ব্যাংক অফ চীন’ এবং ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অফ চীন (আইসিবিসি)’ অর্থ মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রায়ত্ত তামাক সংস্থার কাছে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে যথাক্রমে ১৬০ বিলিয়ন এবং ১০০ বিলিয়ন ইউয়ান সংগ্রহ করবে।
সংগৃহীত এই সমস্ত অর্থ ব্যাংকগুলোর ‘কোর টায়ার-১’ ক্যাপিটাল শক্তিশালী করতে ব্যবহৃত হবে। বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা ভাব এবং চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে ব্যাংকগুলোর মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ব্যাংকগুলোতে মূলধন বৃদ্ধির মাধ্যমে বেইজিং দেশের অর্থনীতিতে ঋণপ্রবাহ সচল রাখতে এবং সার্বিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার করতে চাইছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে বার্ষিক সংসদীয় অধিবেশনে প্রথম ঘোষিত এই অর্থায়ন কৌশলটি সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এখন চীনের আর্থিক খাত পুনর্গঠনের কাজ চলছে।



