পিরোজপুরের নেছারাবাদে গ্রাহকদের প্রায় ৩০ কোটি টাকা আমানত নিয়ে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা ‘আস্থা ঋণদান ও সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর মালিক বিশ্বজিৎ হালদার খোকনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলায় ছয়টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত এবং অপর একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে সাধারণ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশাল বিমানবন্দর থানার আওতাধীন কলারটিমা-কাশিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নেছারাবাদ থানা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তারের পর তাকে নেছারাবাদ থানায় নেওয়া হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার বিশ্বজিৎ হালদার খোকন নেছারাবাদ উপজেলার গণপতিকাঠি গ্রামের বিমল চন্দ্র হালদারের ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘আস্থা ঋণদান ও সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর মালিক হিসেবে পরিচিত। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সমিতিটির প্রায় দুই হাজার সদস্য রয়েছে। এসব সদস্যের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৩০ কোটি টাকা আমানত হিসেবে জমা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সমিতির বিপুল পরিমাণ আমানত নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির মধ্যেই বিশ্বজিৎ হালদারের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়। মামলাগুলোতে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকলেও এতদিন তার অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ সূত্র জানায়, বিশ্বজিৎ হালদার খোকনের বিরুদ্ধে সিআর মামলাসহ মোট ছয়টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। পাঁচটি মামলায় তার সাজা হয়েছে। অন্য একটি মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে সাধারণ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এসব পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর নেছারাবাদ থানা পুলিশের একটি দল বরিশাল বিমানবন্দর থানা এলাকায় অভিযান চালায়। এএসআই মো. রিয়াদ হাসান ও মো. শাওনের নেতৃত্বে পুলিশের সদস্যরা কলারটিমা-কাশিপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। একপর্যায়ে বিশ্বজিৎ হালদার খোকনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, বিশ্বজিৎ হালদার খোকনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। পরোয়ানা জারির পর তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। সোমবার সকালে তাকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হবে।
প্রায় দুই হাজার সদস্যের কাছ থেকে ৩০ কোটি টাকা আমানত জমা থাকার তথ্যের কারণে বিশ্বজিৎ হালদারের গ্রেপ্তারকে ঘিরে সমিতির গ্রাহকদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে আমানতের অর্থ ফেরত, সমিতির বর্তমান আর্থিক অবস্থা কিংবা গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার মাধ্যমে এ বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।



