ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল বিশ্বরোড গোলচত্বরে চলমান সড়ক উন্নয়নকাজ ও পিচ ঢালাইয়ের সংস্কারকাজের কারণে ঢাকা-সিলেট ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কসহ আঞ্চলিক সংযোগ সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজটের। এতে চারপাশের প্রায় ১০ কিলোমিটারজুড়ে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি থমকে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী ও চালক।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই স্থবিরতা বিকেলের দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেড়তলা থেকে বাড়িউড়া পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার বিস্তৃত হয়। একই সাথে যানজটের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের নন্দনপুর এলাকা এবং সরাইল-নাসিরনগর আঞ্চলিক সড়কের সরাইল বাজার পর্যন্ত। ফলে চারমুখী রাস্তার সংযোগস্থলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সরাইল বিশ্বরোড মোড়ে একযোগে সড়ক প্রশস্তকরণ ও সংস্কারকাজ চলায় স্বাভাবিক চলাচলের রাস্তা সংকুচিত হয়ে এসেছে। তার ওপর মহাসড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে বৃষ্টি ও ভারি যান চলাচলের কারণে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সরাইল মোড়ে ঢাকা থেকে সিলেটমুখী যানবাহন দুটি লেন ব্যবহার করে পার হতে পারলেও, সিলেট থেকে ঢাকা ও কুমিল্লামুখী লেনে কাজ চলায় তৈরি হচ্ছে মারাত্মক বাধা। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে মোড়ের ওপর অবৈধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশা, যা মূল সড়কের ওপর থেকে যাত্রী ওঠানামা করায়। মাঝেমধ্যেই ভারি পণ্যবাহী ট্রাক ও লরি খানাখন্দে আটকে গিয়ে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দিচ্ছে।
দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকায় দূরপাল্লার বাসের যাত্রী, অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগী ও সাধারণ পথচারীদের চড়া রোদে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেককে বাধ্য হয়ে বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে রওনা হতে দেখা গেছে।
পরিস্থিতির কথা নিশ্চিত করে সরাইল-খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল হালিম দেওয়ান জানান, সরাইল বিশ্বরোডে একপাশে সড়ক মেরামতের কাজ চলছে এবং গর্তের কারণে মালামালবাহী ভারি গাড়িগুলো ধীরগতিতে চলায় যানজটের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। খবর পাওয়ার পর থেকেই হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম সড়কে অবস্থান নিয়ে যানজট নিরসনে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



