ময়মনসিংহে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল এক তরুণের, এ বছর মৃত্যু বেড়ে ১৩

ময়মনসিংহ অঞ্চলসহ আশপাশের জেলাগুলোতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করছে। ময়মনসিংহে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল খালেক (২২) নামের এক তরুণের অকালমৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আইসোলেশন ও ডেঙ্গু ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই এক তরুণের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে।
হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, মৃত আব্দুল খালেক পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার বাসিন্দা। জ্বর ও ডেঙ্গুর বিভিন্ন জটিল উপসর্গ নিয়ে তিনি গত ৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর শরীরে ডেঙ্গু এনএস১ পজিটিভ ধরা পড়লে চিকিৎসকেরা তাঁকে দ্রুত ভর্তি করার পরামর্শ দেন। ভর্তির পর থেকে বিশেষায়িত ডেঙ্গু ওয়ার্ডে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। তবে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় সমস্ত চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. মোস্তফা ফয়সাল সামগ্রিক পরিস্থিতির বিবরণ দিতে গিয়ে জানান, গত কিছুদিন ধরে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধুমাত্র গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুর লক্ষণ ও উচ্চ তাপমাত্রা নিয়ে নতুন করে ৪৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অন্যদিকে, বিগত ২৪ ঘণ্টায় সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ শেষে সুস্থ হয়ে সপরিবারে বাড়ি ফিরেছেন ৬৪ জন। ডা. মোস্তফা ফয়সাল আরও নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমানে ডেঙ্গু ডেডিকেটেড ওয়ার্ড ও আইসোলেশন ইউনিটে সর্বমোট ১১৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সর্বমোট ১ হাজার ৮০২ জন ডেঙ্গু রোগী এই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন।
প্রতিবছর বর্ষা ও বর্ষাপরবর্তী মৌসুমে এডিস মশার বংশবিস্তারের কারণে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুর ও ময়মনসিংহ জেলার গ্রাম-গঞ্জের রোগীদের মূল আশ্রয়স্থল এই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ফলে প্রতিদিনের রোগী ভর্তির এই প্রবাহ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, অনেক সময় রোগীরা জ্বরকে সাধারণ ফ্লু ভেবে অবহেলা করেন এবং প্লাটিলেট মারাত্মক কমে যাওয়া পর্যন্ত ঘরে বসে থাকেন। বিলম্বে হাসপাতালে আনার কারণেই প্রাণহানির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। চিকিৎসকেরা সাধারণ মানুষকে পরামর্শ দিচ্ছেন, জ্বর হওয়া মাত্রই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের কাছে যাওয়া কিংবা অবিলম্বে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো জরুরি। এর পাশাপাশি জমে থাকা পরিষ্কার পানি নিয়মিত অপসারণ এবং রাতে ও দিনে ঘুমানোর সময় আবশ্যিকভাবে মশারি ব্যবহারের ওপর জোর দিতে বলেছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞেরা।
Tags :

সৌরভ বিশ্বাস | উপ-সম্পাদক | খবরওয়ালা বাংলা

https://bn.khaborwala.com/

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।