ধর্ষণ-হত্যা মামলার আসামি গুলিতে নিহত, গ্রেফতার একজন

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় ধর্ষণের পর তরুণীকে হত্যার মামলার প্রধান আসামি ও সাবেক ইউপি সদস্য আদম আলীকে (৬০) গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের চণ্ডীপাশা এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। একই দিন অভিযান চালিয়ে ইরাদুল ইসলাম (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১২-এর পাবনা দল।

নিহত আদম আলী একদন্ত ইউনিয়নের ষাটগাছা গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি একদন্ত ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন বলে জানিয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম হোসেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আদম আলী একটি চরমপন্থি দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক মামলা ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, সোমবার বিকেলে একদন্ত বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন আদম আলী। চণ্ডীপাশা গ্রামের আহম্মেদ আলীর বাড়ির সামনে পাকা সড়কে পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। এরপর তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। একই সঙ্গে ধারালো অস্ত্র দিয়েও হামলা করা হয়। গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে আটঘরিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলা হওয়ার পর অভিযান শুরু করে র‌্যাব। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আটঘরিয়া উপজেলার গোপালপুর তাতিপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইরাদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি চণ্ডীপাশা গ্রামের মৃত আব্দুলের ছেলে। র‌্যাবের অভিযানে তার কাছ থেকে একটি মুঠোফোন, দুটি সিম এবং নগদ ১ হাজার ৭৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি চরমপন্থি দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে আদম আলীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।

আদম আলীর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ষাটগাছা গ্রামের এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ। ওই মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছিল।

পুলিশ জানায়, ওই ঘটনায় র‌্যাব আদম আলীকে গ্রেফতার করেছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তরুণীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন বলে পুলিশের দাবি। মামলার তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। সেখানে আদম আলীকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়।

প্রায় এক বছর কারাগারে থাকার পর সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরেছিলেন আদম আলী। এর কিছুদিনের মধ্যেই তাকে প্রকাশ্যে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হলো।

এদিকে, তার বিরুদ্ধে থাকা পুরোনো ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রমের পাশাপাশি নতুন হত্যাকাণ্ডের তদন্তও এখন সামনে এসেছে। নতুন মামলায় গ্রেফতার ইরাদুল ইসলামের ভূমিকা, হত্যার পেছনে সম্ভাব্য বিরোধ এবং ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত চালাচ্ছে।

Tags :

সামিউর রহমান রাতুল | উপ-সম্পাদক | খবরওয়ালা বাংলা

https://bn.khaborwala.com/

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।