বলিউড তারকা অক্ষয় কুমারের জনপ্রিয় একটি মিম ব্যবহার করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করেছে তিউনিসিয়ায় ইরানের দূতাবাস। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে কূটনৈতিক মিশনের এমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কৌশল নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।
ইরানি দূতাবাসের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে অক্ষয় কুমারের কয়েকটি হাস্যরসাত্মক অভিব্যক্তির সমন্বয়ে তৈরি মিমটি পোস্ট করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা ছিল—‘সাবমেরিন আটক। তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি। নির্বাচনও সামনে। কেমন চলছে, ট্রাম্প?’
মিমটির মাধ্যমে একসঙ্গে কয়েকটি বিষয় সামনে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির কাছে তাদের বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন আটক করেছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচন—এই বিষয়গুলোকে জুড়ে ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে বিদ্রূপ করা হয়েছে।
অক্ষয় কুমারের বলিউডের বিভিন্ন কমেডি সিনেমার পরিচিত ও মজার অভিব্যক্তি মিমটিকে আরও কৌতুকপূর্ণ করে তুলেছে। সাধারণত বিনোদনমূলক পোস্টে ব্যবহৃত এসব অভিব্যক্তিকে এবার রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার কাজে ব্যবহার করেছে ইরানি কূটনৈতিক মিশন। ফলে পোস্টটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের নজরে আসে।
পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর এক্স ব্যবহারকারীদের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ ইরানের কৌতুকপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তার প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ এমন মিমের মাধ্যমে সামরিক উত্তেজনাকে উপস্থাপনের বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। অনেকেই তেলের বাজারে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও আলোচনা করেন।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির প্রসঙ্গটি গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এই জলপথের বড় ভূমিকা রয়েছে। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। ফলে ওই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ইরানি দূতাবাসের পোস্টে সেই সংবেদনশীল বিষয়টিকেই রাজনৈতিক ব্যঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে কটাক্ষ করতে ইরান বলিউডের জনপ্রিয় দৃশ্য বা চরিত্র ব্যবহার করেছে এবারই প্রথম নয়। চলতি বছরের এপ্রিলেও মুম্বাইয়ে ইরানের কনস্যুলেট বলিউডের ‘ধামাল’ সিনেমার একটি দৃশ্য ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যঙ্গ করেছিল। ওই দৃশ্যে রিতেশ দেশমুখের চরিত্রকে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে পালিয়ে একটি দেয়ালহীন বাড়ির দরজার আড়ালে লুকাতে দেখা যায়। সেই দৃশ্য ব্যবহার করে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে তাড়া খাওয়া অবস্থায় দেখানোর চেষ্টা করেছিল।
সেই পোস্টের সঙ্গে ইরানি কনস্যুলেট লিখেছিল, ‘ভারতের মিম সর্বসেরা।’ এর মধ্য দিয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় সংস্কৃতিকে কূটনৈতিক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন রাষ্ট্রীয় কূটনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। প্রচলিত বিবৃতি বা সংবাদ সম্মেলনের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরতে মিম, ব্যঙ্গচিত্র, ভিডিও ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির নানা উপাদান ব্যবহার করছে। ইরানের সাম্প্রতিক পোস্টও সেই প্রবণতারই একটি উদাহরণ।
অক্ষয় কুমারের মিম ব্যবহার করে ট্রাম্পকে করা এই কটাক্ষ তাই শুধু একটি হাস্যরসাত্মক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট নয়। এর মধ্যে সামরিক উত্তেজনা, জ্বালানি বাজার এবং মার্কিন রাজনীতিকে একসঙ্গে টেনে এনে ইরানের রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে। আর সেই বার্তাকে আরও সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ব্যবহার করা হয়েছে বলিউডের পরিচিত মুখ ও জনপ্রিয় মিম সংস্কৃতি।


