দীর্ঘ অপেক্ষার পর ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) অভিষেক হলো মেহেদী হাসান মিরাজের। আর প্রথম ম্যাচেই বল হাতে নিজের সামর্থ্যের দারুণ প্রমাণ দিলেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ৪ ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেছেন তিনি।
সেন্ট লুসিয়া কিংসের বিপক্ষে ম্যাচটিতে মিরাজের বোলিং ছিল নিয়ন্ত্রিত ও কার্যকর। ২৪ বলের মধ্যে ১৩টিই ছিল ডট বল। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি ডেলিভারিতে রান নিতে পারেননি ব্যাটাররা। তার শিকার হয়েছেন জন ক্যাম্পবেল, কেমোল সেভরি ও চরিথ আসালাঙ্কা। ৪-০-১৩-৩ বোলিং ফিগারই বলে দিচ্ছে, অভিষেকের ম্যাচে কতটা কৃপণ ছিলেন বাংলাদেশের অফস্পিনার।
সিপিএলে মিরাজের খেলার অপেক্ষাটা অবশ্য নতুন নয়। ২০১৭ সালে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের হয়ে তার টুর্নামেন্টটিতে অভিষেকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ কাজে লাগেনি। প্রায় এক দশক পর অবশেষে ক্যারিবিয়ান ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের অন্যতম বড় আসরে মাঠে নামার সুযোগ পেলেন তিনি।
গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে সেন্ট লুসিয়া কিংস। শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে রাখে গায়ানার বোলিং আক্রমণ। মিরাজের সঙ্গে স্পিনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন দলের অধিনায়ক ইমরান তাহির। দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞ লেগস্পিনার ১৭ রান খরচ করে ৫ উইকেট তুলে নেন। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে সেন্ট লুসিয়ার ইনিংস ১১৯ রানের মধ্যেই থেমে যায়।
স্বল্প পুঁজি তাড়া করতে নেমে গায়ানাও শুরুতে কিছুটা চাপের মুখে পড়ে। তবে শেষ পর্যন্ত ৯ বল হাতে রেখে ৪ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে তারা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করে অবদান রাখেন গ্লেন ফিলিপস ও কুয়েন্টিন স্যাম্পসন। লক্ষ্য ছোট হওয়ায় গায়ানার ব্যাটাররা প্রয়োজন অনুযায়ী আক্রমণ ও ধৈর্যের সমন্বয় করে ম্যাচ শেষ করেন।
ব্যাট হাতে অবশ্য নিজের অভিষেকটা স্মরণীয় করতে পারেননি মিরাজ। ৪ বল খেলে মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। তবে তার মূল দায়িত্ব ছিল বোলিংয়ে, আর সেই জায়গাতেই তিনি দলের প্রত্যাশা পূরণ করেছেন।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে চলতি বছরটি মিরাজের জন্য বেশ ব্যস্ত। গল গ্যালান্টেসের হয়ে লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তিনি। পাকিস্তান সুপার লিগেও (পিএসএল) লাহোর কালান্দার্সের হয়ে শিরোপা জয়ের দলের অংশ ছিলেন। তবে সেখানে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। ফলে সিপিএলে মাঠে নামার সুযোগটি তার জন্য ছিল আলাদা গুরুত্বের।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মিরাজের প্রশংসা করেন ইমরান তাহির। গায়ানার অধিনায়ক জানান, দলে মোহাম্মদ নবীর মতো মানসম্পন্ন বোলার ছিলেন এবং তার জায়গায় সুযোগ পেয়ে মিরাজ দারুণ পারফর্ম করেছেন।
তাহির বলেন, ‘দলে নবী ছিল। খুবই উঁচু মানের বোলার নবী, সেই আমাদের সেরা বোলার ছিল। তার বদলে এসে সত্যিই দারুণ বোলিং করেছে মিরাজ। আমরা এমনটাই চাইছিলামও। তাকে দলে পাওয়া সত্যিই দারুণ ব্যাপার। মিরাজ বিশ্বমানের বোলার, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারফর্ম করে আসছে।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্পিন অলরাউন্ডার মিরাজ। সিপিএলের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে প্রথম সুযোগেই তার এমন পারফরম্যান্স সেই অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে কম রান খরচ করে নিয়মিত ডট বল দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেওয়া গায়ানার জয়ে তার ভূমিকা স্পষ্ট করে দিয়েছে।
অভিষেক ম্যাচে ব্যাট হাতে সাফল্য না এলেও বল হাতে মিরাজ যে প্রভাব ফেলেছেন, সেটিই আপাতত সবচেয়ে বড় বিষয়। গায়ানার হয়ে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে এই পারফরম্যান্স তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারে।


