লালমনিরহাটের পাটগ্রামে নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত জব্দ করা ড্রেজার মেশিন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তিন বিএনপি নেতাসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিজিবি ক্যাম্পে ঢুকে দায়িত্বপালনরত সদস্যদের হুমকি দেওয়া এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার আলাউদ্দিন নগর বিজিবি ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিজিবির করা মামলায় পাটগ্রাম থানা পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে। শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—বুড়িমারী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, একই ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কর্মী মতিউর রহমান, শাহাদাত হোসেন ও দুলাল মিয়া।
পুলিশ ও বিজিবি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাতে আলাউদ্দিন নগর মেচেরঘাট এলাকায় ধরলা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের খবর পেয়ে বিজিবির একটি টহল দল সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় নদী থেকে একটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়। পরে সেটি আলাউদ্দিন নগর বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে রাখা হয়।
ড্রেজার জব্দের খবর স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি বিজিবি ক্যাম্পে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ। সেখানে তারা বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ করেন এবং দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের হুমকি দেন। একই সঙ্গে জব্দ করা ড্রেজার মেশিনটি জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে বিজিবির অভিযোগ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকেই ছয়জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের পাটগ্রাম থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল রহমান জানান, বিজিবি ক্যাম্পে ঢুকে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের হুমকি দেওয়া এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বিজিবির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে ধরলা নদীতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। নদী থেকে পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজার জব্দ করার পর সেটি নিয়ে বিজিবি ক্যাম্পে গিয়ে উত্তেজনা তৈরির অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে মামলাটির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলছে।



