ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া বাইপাস মোড় এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ড্রাম ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শিশুসহ অন্তত পাঁচজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ব্যস্ততম এই বাইপাস সংযোগস্থলে মারাত্মক এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। তারা হলেন—ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার জোরবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা সোনিয়া (৩০) এবং একই উপজেলার চৌদার গ্রামের মো. আব্দুল খালেকের ছেলে মো. সাদেক আলী (২৭)। এ দুর্ঘটনায় নিহত সোনিয়ার ছয় বছর বয়সী শিশুপুত্র সাজিদ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নিহত সাদেক আলীর একজন নিকটাত্মীয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁকে দেখতে এবং চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে ফুলবাড়িয়া থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে চালক ও ছয়জন যাত্রী একযোগে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অটোরিকশাটি আকুয়া বাইপাস মোড়ে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী একটি ট্রাকের সঙ্গে সেটির সরাসরি তীব্র সংঘর্ষ হয়। মুহূর্তের মধ্যেই অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার কাজে হাত বাড়ান।
সংঘর্ষের পর তীব্র আঘাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান যাত্রী সোনিয়া। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আহত রোগীদের উদ্ধার করে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক সাদেক আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্যান্য যাত্রীদের মধ্যে শিশু সাজিদ সহ পাঁচজনকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ আল আমিন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং আহতদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা প্রদান নিশ্চিত করা হচ্ছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম ঘটনার বিষয়ে জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে এবং দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি জব্দ করে। ট্রাকের চালক ও সহকারীকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে অতিরিক্ত গতি বা ট্রাফিক নিয়ম অমান্যের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


