টাঙ্গাইলের মধুপুরে এক মাদক কারবারির বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে অন্তত ৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মধুপুর পৌরশহরের টেকিপাড়া এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। অভিযান চলাকালে স্থানীয় উৎসুক জনতা ও প্রতিবেশীদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ী সুকৌশলে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
অভিযুক্ত ওই মাদক কারবারির নাম হাফিজ উদ্দিন। তিনি মধুপুর পৌর এলাকার বোয়ালী গ্রামের মৃত শুক্কুর আলীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাফিজ পৌরশহরের টেকিপাড়া এলাকায় তাঁর শ্বশুর, সাবেক পৌর কাউন্সিলর মৃত সাখাওয়াত হোসেনের কাছ থেকে পাওয়া স্ত্রী সাথের ওয়ারিশি সম্পত্তিতে নতুন ঘর তুলে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছিলেন। তবে বাইরে সাধারণ ব্যবসা বা গৃহস্থালির কথা বললেও দীর্ঘদিন ধরে তাঁর চালচলন, রাতবিরাতে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা এবং বিভিন্ন গোপন কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকার মানুষের মনে সন্দেহ দানা বাঁধছিল।
শুক্রবার বিকেলে গোপন সূত্রে ছড়িয়ে পড়ে যে হাফিজের বসতঘরে মাদকের এক বিশাল চালান মজুত রাখা হয়েছে। খবরটি পেয়ে আর দেরি না করে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা সরাসরি হাফিজের বাড়িতে হাজির হন এবং সেখানে ইয়াবার চালান থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তাঁকে সরাসরি প্রশ্ন ও চ্যালেঞ্জ করেন। পরিস্থিতি বেগতিক এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আঁচ করতে পেরে চতুর হাফিজ কালবিলম্ব না করে সেখান থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেন। এর পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত মধুপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
খবর পাওয়ার সাথে সাথেই মধুপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত টেকিপাড়ার ওই বাড়িতে পৌঁছে পুরো প্রাঙ্গণ ঘিরে ফেলে ও তল্লাশি অভিযান শুরু করে। তল্লাশির একপর্যায়ে বসতঘরের একটি গোপন স্থানে যত্ন করে লুকিয়ে রাখা ইয়াবার প্যাকেটগুলো উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে মধুপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম এবং উপস্থিত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সামনে উদ্ধারকৃত ইয়াবাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে গণনা করা হয়। সেখানে ৪ হাজার পিসেরও বেশি লালচে রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মধুপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম জানান, মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের জিরো টলারেন্স অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় জনগণের এমন সচেতনতা এবং পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার বিষয়টি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি আরও জানান, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বাড়ির মালিক হাফিজ উদ্দিনসহ জড়িত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্ত হাফিজকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ ইতিমধ্যেই একাধিক সম্ভাব্য স্থানে জোর তৎপরতা ও অভিযান শুরু করেছে।


