চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ১৩ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় সাতটি ভাড়াঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ উঠেছে অস্ত্রধারী একদল সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার সলিমপুর বাংলাবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা ঘরের দরজা, জানালা ও টিন কেটে ফেলেছে। লুট করে নেওয়া হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল।
ভাড়াঘরগুলোর মালিক মোহাম্মদ বাবুল খান অভিযোগ করেন, অস্ত্রধারীরা তার কাছে ১৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার মালিকানাধীন ভাড়াঘরগুলোতে হামলা চালানো হয়।
বাবুল খানের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে চাঁদার টাকা দাবি করে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা তাকে স্পষ্টভাবে হুমকি দিয়ে বলেছিল, ‘তুই ফ্যাসিস্ট, ১৩ লাখ টাকা চাঁদা দে, না হয় এলাকা ছাড়।’ এরপরই ভাড়াঘরগুলোর দরজা-জানালা ও টিন কেটে ফেলা হয়। ভাঙচুর করা হয় ঘরের বিভিন্ন অংশ। একই সঙ্গে সেখানে থাকা মালামালও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তার।
ঘটনার পর নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাবুল খান। তার দাবি, পরিবার ও ছেলেসন্তান নিয়ে তিনি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। চাঁদার দাবিতে এ ধরনের হামলার পর এলাকায় বসবাস ও সম্পত্তি নিয়ে তিনি আতঙ্কের মধ্যে আছেন বলেও জানান।
ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, হামলার দুই দিন আগে অস্ত্রধারীদের বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে অভিযোগ জানানোর পরও পুলিশের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, বিষয়টি আগে থেকেই পুলিশকে জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত ভাড়াঘরগুলোতে হামলা ও লুটপাট ঠেকানো সম্ভব হয়নি।
হামলার সময় ভাড়াঘরগুলোর সিসি ক্যামেরাও ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ঘটনার কোনো দৃশ্য ধারণ হয়ে থাকলে তারও ক্ষতি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবেই ঘরের বিভিন্ন অংশের পাশাপাশি নজরদারি ব্যবস্থাও নষ্ট করে দেয়।
ঘটনার খবর পেয়ে পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা সেখান থেকে লোহা কাটার যন্ত্র, ঘরের কয়েকটি টিন, লোহার অ্যাংগেল এবং এলপি গ্যাসের বোতলসহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ করেন। পরে সেগুলো ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রুবেল আফ্রাদ বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছু মালামাল ও লোহা কাটার সরঞ্জাম জব্দ করে। পুলিশ পৌঁছানোর সময় ঘরগুলোতে ভাঙচুর চালানো ব্যক্তিরা পালিয়ে যান। তিনি জানান, ভাড়াঘরগুলো মোহাম্মদ বাবুল খান নামের এক ব্যক্তির।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হামলাকারীদের পরিচয় বা তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগীর অভিযোগ, চাঁদার দাবিতে হুমকি দেওয়ার পরই ভাড়াঘরগুলোতে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চাঁদা দাবি, অস্ত্রের ভয় দেখানো, সম্পত্তিতে হামলা এবং মালামাল লুটের অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে পরিবার ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপও চান তারা।


