রাজধানীর পল্লবীর সবুজবাংলা আবাসিক এলাকায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ৭১ টেলিভিশনের প্রতিবেদক প্রান্ত পারভেজের বাসায় হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক প্রান্ত পারভেজের ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন ব্যক্তি তার বাসার সামনে আসে। তারা বাসায় ঢুকে তাকে খোঁজাখুঁজি করে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। প্রান্ত পারভেজের দাবি, তাকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি চালানো হয়। সব মিলিয়ে ওই এলাকায় চার রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে তিনি জানান।
হামলার পরপরই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। রাতের এই ঘটনায় ওই এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়। তবে হামলার সময় সাংবাদিকের পরিবারের অন্য কেউ আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সাংবাদিক প্রান্ত পারভেজের অভিযোগ, মিরপুর ও পল্লবীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ‘আশিক গ্রুপ’ জড়িত। সম্প্রতি এই গ্রুপের কথিত চাঁদাবাজি নিয়ে ৭১ টেলিভিশনে একটি প্রতিবেদন সম্প্রচার করা হয়। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের জেরেই তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
প্রান্ত পারভেজের অভিযোগে ‘আশিক’ নামে এক ব্যক্তিকে ওই গ্রুপের মূলহোতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হামলার সঙ্গে কারা সরাসরি জড়িত এবং তাদের পরিচয় কী, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার পর সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিকের ওপর হামলা বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা জরুরি বলে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত।
এ ঘটনায় পল্লবী থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রান্ত পারভেজ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে থানায় মামলা দায়ের করার কথা রয়েছে। মামলা হলে পুলিশ হামলার কারণ, অভিযুক্তদের পরিচয় এবং গুলিবর্ষণের ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রের বিষয়ে তদন্ত শুরু করতে পারে।
এদিকে, হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আবাসিক এলাকায় গভীর রাতে মোটরসাইকেলে করে একদল ব্যক্তি এসে একটি বাসায় হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ ওঠায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তবে হামলার প্রকৃত কারণ, অভিযুক্তদের পরিচয় এবং ঘটনার সঙ্গে কথিত ‘আশিক গ্রুপ’-এর সম্পৃক্ততা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়। সাংবাদিকের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী ধরনের ব্যবস্থা নেয় এবং হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করা যায় কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।


