সাবেক ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের (পিএসজি) সঙ্গে আর্থিক বিরোধের আইনি লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। প্যারিস কোর্ট অব অ্যাপিলের রায়ে ফ্রান্সের এই তারকাকে তার সাবেক ক্লাবকে ৬০ হাজার ইউরো পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পিএসজির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের উদ্যোগকে কেন্দ্র করেই আদালতের এই সিদ্ধান্ত এসেছে।
ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক ‘লেকিপ’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে পিএসজির ব্যাংক হিসাব বাজেয়াপ্ত বা জব্দের যে প্রচেষ্টা এমবাপ্পের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল, সেটির ওপর আদালতের রুলের পরিপ্রেক্ষিতে সর্বশেষ রায় দেওয়া হয়েছে। অর্থের অঙ্ক বিবেচনায় জরিমানাটি খুব বড় না হলেও, দীর্ঘদিনের বিরোধে এটি পিএসজির জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এমবাপ্পে ২০২৪ সালের আগস্টে পিএসজির সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টেনে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন। প্যারিসে তার সময়টা ছিল সাফল্যে ভরা। তবে ক্লাব ছাড়ার পরও দুই পক্ষের মধ্যে আর্থিক বিষয় নিয়ে বিরোধ মেটেনি। এমবাপ্পের দাবি, পিএসজির কাছে তার বকেয়া অর্থ রয়েছে।
ক্লাব ছাড়ার পর বকেয়া বোনাস ও অন্যান্য ইনসেনটিভ বাবদ পিএসজির কাছে প্রায় ৬০ মিলিয়ন ইউরো দাবি করেন ফ্রান্সের অধিনায়ক। বিপুল অঙ্কের এই দাবি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা ও আইনি প্রক্রিয়া চলতে থাকে। ফরাসি ফুটবল লিগের (এলএফপি) আইনি কমিটির সমর্থনও পেয়েছিলেন এমবাপ্পে। কিন্তু তাতেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।
পরিস্থিতি আরও জটিল হলে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে এমবাপ্পে বিষয়টি শ্রম আদালতে নিয়ে যান। সেখানে পিএসজির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করার আবেদন করেন তিনি। নিজের দাবিকৃত অর্থ আদায়ের জন্য নেওয়া সেই আইনি পদক্ষেপই শেষ পর্যন্ত তার জন্য নতুন সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্যারিস কোর্ট অব অ্যাপিলের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে এমবাপ্পেকে পিএসজিকে ৬০ হাজার ইউরো দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে যে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাবেক ক্লাবের কাছ থেকে পাওনা অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন তিনি, সেখানেই আপাতত পিএসজি সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করেছে।
অবশ্য ৬০ হাজার ইউরোর জরিমানার অঙ্কটি এমবাপ্পের দাবিকৃত ৬০ মিলিয়ন ইউরোর তুলনায় খুবই সামান্য। ফলে আর্থিক ক্ষতির দিক থেকে এটি পিএসজির জন্য বড় কোনো বিষয় নয়। এই রায়ের গুরুত্ব মূলত আইনি অবস্থান ও মামলার প্রেক্ষাপটে। এমবাপ্পের করা ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ আদালতে বাধার মুখে পড়েছে—এটাই পিএসজির জন্য বড় স্বস্তির জায়গা।
এমবাপ্পে ও পিএসজির সম্পর্কের টানাপোড়েন অবশ্য তার ক্লাব ছাড়ার সময় থেকেই আলোচনায় ছিল। প্যারিসের ক্লাবটির আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে দীর্ঘ সময় খেলেছেন তিনি। পরে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পরও পুরোনো ক্লাবের সঙ্গে আর্থিক বিরোধের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি।
সর্বশেষ রায়েই দুই পক্ষের পুরো বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। কারণ এমবাপ্পের দাবিকৃত বকেয়া অর্থের মূল বিষয়টি এই বৃহত্তর আইনি বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে। ফলে সামনে আরও আইনি প্রক্রিয়া বা সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা থাকছে।
তবে আপিল আদালতের রায় পিএসজির জন্য নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। বিশেষ করে সাবেক তারকার বিপুল অঙ্কের আর্থিক দাবির বিপরীতে ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ আটকে যাওয়া এবং উল্টো এমবাপ্পের ওপর অর্থ পরিশোধের নির্দেশ আসায় মামলার এই পর্যায়ে পিএসজিই এগিয়ে রয়েছে।


