রাজধানীর মহাখালী এলাকায় চলন্ত ট্রেনের ছাদে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, সাত থেকে আটজনের একটি দল তাঁকে ঘিরে ধরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাতের পর মুঠোফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। মানিব্যাগে সাড়ে আট হাজার টাকা ছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে জামালপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র ট্রেনের ছাদে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীর নাম হাসানুজ্জামান সাজিদ (২২)। তিনি নাটোরের কাদিরাবাদে অবস্থিত বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির (বিএইউইটি) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী।
সাজিদ ও তাঁর খালু শহীদুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সাজিদ রোববার জামালপুর থেকে ঢাকার উত্তরায় আসেন। সেখানে এক বন্ধুর খালার বাসায় অবস্থান করছিলেন তিনি। সোমবার সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়ি জামালপুরে ফেরার জন্য কমলাপুর রেলস্টেশনে যান এবং সেখান থেকে ব্রহ্মপুত্র ট্রেনের ছাদে ওঠেন।
ট্রেনটি মহাখালী এলাকা অতিক্রম করার সময় কয়েকজন ব্যক্তি সাজিদকে ঘিরে ধরে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দলের সদস্যের সংখ্যা ছিল সাত থেকে আটজন। একপর্যায়ে তাঁকে দুই হাত, বুক, পিঠ ও বাঁ পায়ে ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলার পর তাঁর সঙ্গে থাকা মুঠোফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে দ্রুত সরে যায় তারা।
হঠাৎ ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে ট্রেনের ছাদে পড়ে থাকেন সাজিদ। পরে বিমানবন্দর রেলস্টেশন এলাকায় স্থানীয় লোকজন ও বিমানবন্দর ফাঁড়ির রেলওয়ে পুলিশের কনস্টেবল মো. রুবেল প্রামাণিক তাঁকে উদ্ধার করেন। আহত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাত ১০টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, আহত শিক্ষার্থীর জরুরি বিভাগে চিকিৎসা চলছে। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে থানাকে জানানো হয়েছে।
চলন্ত ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠা দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। বিশেষ করে রাতের বেলায় ছাদে যাত্রীদের নিরাপত্তা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এ ঘটনায়ও ট্রেনের ছাদে অবস্থানরত এক যাত্রীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। তবে ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা তাদের আটকের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সাজিদের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি ছিনতাই ও হামলার ঘটনা হিসেবে তদন্তের আওতায় আসতে পারে। তাঁর সঙ্গে থাকা মুঠোফোন ও নগদ টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি হামলাকারীদের শনাক্ত করা গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্রও স্পষ্ট হবে। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপরও এখন নজর রয়েছে স্বজনদের।
রেলপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ব্যস্ত রেলপথ ও শহরসংলগ্ন এলাকায় চলন্ত ট্রেনে ছিনতাই বা হামলার অভিযোগ উঠলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।



