দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২৩৯ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে এবং ৮১ শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া আট শিশুর মধ্যে তিনজন সিলেট বিভাগের, দুজন ঢাকা বিভাগের, দুজন বরিশাল বিভাগের এবং একজন খুলনা বিভাগের। তবে ওই ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪৪। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ১০০ শিশু। ফলে হাম ও হামের উপসর্গ মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৪৪-এ পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৯৮ এবং নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ২৮২ শিশুর শরীরে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৪১ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ৭৯ শিশু। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪২০। এর মধ্যে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬৫ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছে।
মৃত্যু ও আক্রান্তের হিসাব
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত পরিসংখ্যানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—‘নিশ্চিত হাম’ এবং ‘হামের উপসর্গ’ নিয়ে মৃত্যুকে আলাদা শ্রেণিতে রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হওয়ার পর যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের নিশ্চিত হামে মৃত্যু হিসেবে দেখানো হচ্ছে। আর উপসর্গ থাকলেও পরীক্ষায় নিশ্চিত না হওয়া মৃত্যুগুলোকে আলাদা করে উপসর্গজনিত বা সন্দেহজনক মৃত্যু হিসেবে গণনা করা হচ্ছে।
এই শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে এর আগে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা ও মতপার্থক্যও দেখা গেছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কমিটি ও ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন অ্যান্ড টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপের এক বৈঠকে পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে হামের উপসর্গ থাকা শিশুদের মৃত্যুকেও হামজনিত মৃত্যু হিসেবে বিবেচনার পক্ষে মত দেওয়া হয়েছিল। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ‘নিশ্চিত’ এবং উপসর্গভিত্তিক মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য রেখে তথ্য প্রকাশ করছে।
চলমান পরিস্থিতিতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৫৪ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার রোগী সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পাওয়া সংক্রমণের ব্যাপ্তি ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপের একটি ধারণা দেয়।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ এবং শিশুদের মধ্যে এর সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে টিকা না নেওয়া বা অসম্পূর্ণ টিকাদান করা শিশুদের ঝুঁকি বেশি থাকে। চলমান প্রাদুর্ভাবের সময় তাই সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে দেশে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম—দুই শ্রেণিতেই রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে শুধু নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা নয়, উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা এবং মৃত্যুর ধারাবাহিক পরিসংখ্যানও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


