দেবিদ্বারে মা ও নিষ্পাপ ভাতিজিকে নির্মমভাবে হত্যা করল যুবক

কুমিল্লার দেবিদ্বারে পারিবারিক কলহ ও মানসিক চরম হতাশার এক মর্মান্তিক চরম পরিণতি দেখল স্থানীয় বাসিন্দারা। নিজের শারীরিক অসুস্থতা এবং জীবনের চরম যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আপন মা ও মাত্র আট মাস বয়সী শিশু ভাতিজিকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে ইমন (২৫) নামের এক যুবক। একই সাথে শাশুড়িকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে নিজের ভাবিকেও দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে সে। মর্মান্তিক এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার সকালে দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে। ঘাতক ইমন ওই বাড়ির মৃত ফরিদ মিয়ার সন্তান। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে এসে ঘাতক ইমনকে ঘরের ভেতর আটক করে এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পেশায় দিনমজুর ইমনের জীবন বদলে যায় তিন-চার মাস আগে ফুটবল খেলতে গিয়ে পা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে। দীর্ঘ সময় ধরে সে অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় পড়ে ছিল। একাধিকবার পায়ে অস্ত্রোপচার করা সত্ত্বেও সে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারছিল না। এই শারীরিক কষ্ট ও যন্ত্রণায় চরম হতাশায় ভুগছিল সে। একপর্যায়ে কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা চালালেও মা পিয়ারা বেগম (৬৫) ও পরিবারের অন্য সদস্যদের বাধার কারণে তা সম্ভব হয়নি। বারবার বাঁধার মুখে পড়ে পরিবারের ওপর চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ইমন।
সোমবার সকালে এই ক্ষোভের জের ধরে ধারালো দা নিয়ে মা পিয়ারা বেগমের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ইমন এবং তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। ওই সময় শাশুড়িকে বাঁচাতে ছুটে আসেন ভাবি রাবেয়া আক্তার (২৫)। ঘাতক ইমন তাকেও দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। রক্তাক্ত এই তাণ্ডবের মধ্যে পাশে থাকা রাবেয়ার আট মাস বয়সী শিশুকন্যা ইসরাত জাহানকে দুই পা ধরে মাটির সঙ্গে সজোরে আছাড় মারে ইমন। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় নিষ্পাপ শিশুটি।
ঘটনার পর রক্তাক্ত ও সংকটাপন্ন অবস্থায় রাবেয়া আক্তারকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আটকের পর পুলিশের কাছে নিজের এই নির্মম কর্মকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ইমন জানায় যে, সে দীর্ঘদিন ধরে পায়ের যন্ত্রণায় ভুগছিল এবং বেঁচে থাকার তীব্র কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে মরতে চেয়েছিল। সে একাধিকবার পরিবারকে তাকে মেরে ফেলার কথা বললেও কেউ তা করেনি, উল্টো আত্ম হত্যায় বাধা দিয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকেই সে এই ভয়াবহ ঘটিয়েছে বলে দাবি করে।
এ ঘটনায় নিহত শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ছোট ভাই ইমনের বিরুদ্ধে সোমবার বিকেলে দেবিদ্বার থানায় মামলা দায়ের করেন। দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, পুলিশ ঘাতক ইমনকে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা জেলহাজতে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।