ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিখোঁজ শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার, চিকিৎসাধীন মা অজ্ঞাত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় নিখোঁজের দুদিন পর সাত বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উদ্ধার হওয়া শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রাথমিক শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। তার বাবা পেশায় একজন দিনমজুর, যিনি জীবিকার তাগিদে ঢাকায় একটি বেকারিতে কর্মরত আছেন। গ্রামে মা ও ছোট বোনের সঙ্গেই থাকত শিশুটি।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন শিশুটি তার অন্তর্বাস ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ মাংসের একটি ছোট পোঁটলা হাতে নিয়ে একই গ্রামের নানিবাড়ির উদ্দেশে ঘর থেকে বের হয়। তার মায়েরও একটু পরই সেখানে যাওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে মা বাবার বাড়িতে গিয়ে দেখেন যে মেয়ে সেখানে পৌঁছায়নি। এতে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা আশপাশের সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। নিখোঁজের পর দিন পরিবারের অন্তঃসত্ত্বা মায়ের প্রসববেদনা মারাত্মক রূপ নিলে তাকে দ্রুত জেলা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
নিখোঁজের দুদিন পর নিজ বাড়ির কাছেই একটি নির্জন ও ঘন ঝোপঝাড়ের ভেতর থেকে শিশুটির মৃতদেহের সন্ধান পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে অর্ধগলিত অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে। লাশটি ব্যাপকভাবে পচে ফুলে ওঠায় এবং মুখমণ্ডল পুরোপুরি কালো হয়ে যাওয়ায় সুরতহাল করার সময় তাৎক্ষণিকভাবে শরীরে আঘাতের সুনির্দিষ্ট চিহ্ন বা অন্য কোনো সরাসরি আলামত শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনাস্থল থেকে কেবল শিশুটির ব্যবহৃত এক জোড়া স্যান্ডেল উদ্ধার করতে পেরেছে পুলিশ। ঝোপঝাড় এলাকাটি লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকায় পরিবারের সদস্যরাও খোঁজাখুঁজির সময় সেখানে তল্লাশি করার কথা ভাবেননি।
ঘটনার পর থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা তার কন্যাসন্তানের নির্মম পরিণতির কথা জানেন না। স্বজনরা তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সামলে রাখতে গিয়ে আসল সত্য গোপন রেখেছেন। বর্তমানে তিনি জানেন যে তার সন্তান এখনো নিখোঁজ রয়েছে। হাসপাতালের মর্গে উপস্থিত শিশুর মামা জানিয়েছেন, সদ্যজাত সন্তান ও মায়ের শারীরিক সুস্থতার কথা বিবেচনা করে এই নির্মম বাস্তবতা তার কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ পচে যাওয়ার কারণে প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর স্পষ্ট কারণ বা ক্লু পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণামতে, শিশুটিকে অন্য কোনো স্থানে শ্বাসরোধ বা আঘাত করে হত্যা করার পর বস্তাবন্দী অবস্থায় ওই ঝোপে ফেলে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে। স্থানীয় চিকিৎসা কর্মকর্তাদের মতে, মৃত্যুর আনুমানিক ৪৮ ঘণ্টা অতিবাহিত হলে লাশে এ ধরনের পরিবর্তন ও পচন ধরা স্বাভাবিক। উদ্ধারস্থল নির্জন হওয়ায় এবং ওই এলাকায় কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় রহস্য উদ্ঘাটনে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছে। তবে শিশুটির নিখোঁজের সময় যারা তাকে শেষ দেখেছে তাদেরসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।