সন্তান জন্ম দেওয়ার পর নারীর শরীরে যে পরিবর্তন আসে, সেটিকে নেতিবাচকভাবে দেখার মানসিকতার সমালোচনা করেছেন বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া। তাঁর মতে, গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মের পর ওজন বেড়ে যাওয়া, শরীরে দাগ পড়া কিংবা আগের মতো শারীরিক গঠন না থাকা কোনোভাবেই লজ্জার বিষয় নয়। বরং এসব পরিবর্তন মাতৃত্বের স্বাভাবিক অংশ এবং একজন নারীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতার চিহ্ন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মাতৃত্বের পর নারীদের শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক কটূক্তি ও সমালোচনার প্রসঙ্গে কথা বলেন পরিণীতি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সন্তান জন্ম দেওয়ার পর একজন নারীর শরীরে পরিবর্তন এলে সেটিকে কেন নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হবে? বিশেষ করে স্ট্রেচ মার্ক বা ওজন বৃদ্ধির মতো স্বাভাবিক বিষয়গুলোকে নিয়ে মন্তব্য করার প্রবণতাকে তিনি অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করেন।
পরিণীতির বক্তব্য, একজন নারী টানা নয় মাস গর্ভে একটি প্রাণকে ধারণ করেন। এই সময় তাঁর শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটে। সন্তান জন্মের পরও সেই পরিবর্তন একদিনে চলে যায় না। তাই নতুন মায়ের শরীরকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চাপ তৈরি না করে তাঁর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
অভিনেত্রী মনে করেন, কোনো গর্ভবতী নারী কিংবা সদ্য মা হওয়া নারীকে দেখলে তাঁর ওজন, শরীরের গঠন বা ত্বকের দাগ নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়। বরং মা ও সন্তান কেমন আছেন, তাঁদের প্রয়োজন কী—সেসব নিয়েই কথা বলা বেশি মানবিক। সামাজিক সৌন্দর্যের প্রচলিত মানদণ্ড দিয়ে মাতৃত্বের পর নারীর শরীরকে বিচার করা অনেক সময় তাঁদের ওপর অযাচিত মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে।
মাতৃত্বের পর শরীর নিয়ে মন্তব্যের বিষয়টি সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে বলিউডের বিভিন্ন মহলেও। বিগ বস-এর মঞ্চে অভিনেতা সালমান খানও নারীর শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে মানুষের কটূক্তির সমালোচনা করেছিলেন। এবার একই ধরনের প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন পরিণীতি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রোলিং নিয়েও কথা বলেছেন অভিনেত্রী। তিনি জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব বেশি সময় কাটান না। ফলে তাঁকে নিয়ে অচেনা মানুষ কী লিখছেন বা কী মন্তব্য করছেন, তা নিয়ে তিনি বিশেষভাবে ভাবেন না। তাঁর কাছে পরিবার, নিজের জীবন এবং কাছের মানুষদের সঙ্গে সম্পর্কই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
পরিণীতির এই বক্তব্য শুধু তারকাদের ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনাই নয়, মাতৃত্বের পর নারীর শরীরকে কীভাবে দেখা হয়, সেই বৃহত্তর সামাজিক মানসিকতার দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সন্তান জন্মের পর একজন নারীর শরীর বদলে যাওয়া স্বাভাবিক। সেই পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে উপহাস বা অবাঞ্ছিত মন্তব্যের বদলে সহমর্মিতা ও সম্মান দেখানোর প্রয়োজনীয়তার কথাই তুলে ধরেছেন তিনি।


