রাজধানীর সূত্রাপুরের শ্যামবাজারে পারিবারিক বিরোধের জেরে একটি কক্ষে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। মো. সিদ্দিক (৫৫) নামের ওই ব্যক্তি বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুজনে।
এর আগে একই ঘটনায় দগ্ধ সিদ্দিকের ছেলে ইমন (২৫) মারা যান। ফলে একই পরিবারের বাবা ও ছেলে দুজনই আগুনে দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারালেন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ জানান, শ্যামবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চিকিৎসাধীন সিদ্দিকের শরীরের ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে। সূত্রাপুর থানার শ্যামবাজার এলাকার একটি বাসায় পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে ইমন নিজের কক্ষে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে জানা গেছে। সে সময় ওই কক্ষে ইমনের বাবা সিদ্দিকসহ পরিবারের আরও কয়েকজন ছিলেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পাঁচজন দগ্ধ হন।
পরে স্বজনরা দগ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান। সেখানে তাদের চিকিৎসা শুরু হয়। কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর প্রথমে ইমনের মৃত্যু হয়। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে মারা গেলেন তার বাবা সিদ্দিক।
বর্তমানে ওই ঘটনায় দগ্ধ আরও তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে তানিয়া (১৮) সবচেয়ে বেশি দগ্ধ হয়েছেন। তার শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
অন্য দুই আহত হলেন রাজিব (৩৫) ও ধলু মিয়া ওরফে আরিফ (৩৪)। রাজিবের শরীরের ১৫ শতাংশ এবং আরিফের ৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তারা দুজনও জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ঘটনার পর থেকে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন চিকিৎসকেরা। তবে তানিয়ার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তার চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
পারিবারিক বিরোধের জেরে একটি কক্ষে পেট্রল ব্যবহার করে আগুন দেওয়ার ঘটনা মুহূর্তেই ভয়াবহ রূপ নেয়। এতে একই পরিবারের সদস্যসহ পাঁচজন দগ্ধ হন। কয়েক দিনের ব্যবধানে বাবা-ছেলের মৃত্যুতে ঘটনাটি আরও মর্মান্তিক হয়ে উঠেছে।


