মানিকগঞ্জের শিবালয়ে মাদক সরবরাহ করতে এসে স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় দুই হাজার পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে আটক হয়েছেন জাহানারা খাতুন (৪১) নামের এক নারী। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জমদুয়ারা গ্রামের খেলার মাঠ সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আটক জাহানারা পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার কাশিনাথপুর গ্রামের সলেমানের স্ত্রী এবং বর্তমানে তিনি একই জেলার সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ এলাকায় বসবাস করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, জাহানারা খাতুন দীর্ঘদিন ধরেই জমদুয়ারা ও এর আশপাশের এলাকায় মাদক সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শুক্রবার সকালে এলাকার ইন্না মিয়া নামের এক ব্যক্তির বাড়ির সামনে জাহানারাকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখেন স্থানীয়রা। এরপরই সাধারণ জনগণ তাঁকে ধরে ফেলে এবং স্থানীয় আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে। তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশকে বিষয়টি জানালে শিবালয় থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুলিশ সদস্যরা জাহানারার ব্যাগ তল্লাশি করেন। এ সময় ব্যাগের ভেতর থেকে দুটি হাজার পিস ক্ষতিকর ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক নারী স্বীকার করেছেন যে, গত এক মাসের ব্যবধানে তিনি একাধিকবার ওই এলাকার ইন্না মিয়াকে মাদকের চালান পৌঁছে দিয়েছেন। মূলত দূর-দূরান্ত থেকে কৌশলে ইয়াবার চালান এসে স্থানীয় খুচরা বিক্রেতাদের কাছে হস্তান্তর করাই ছিল তাঁর মূল কাজ।
উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের সীমান্ত ধরে দেশের ভেতরে মাদকের বিস্তার রোধে স্থানীয়দের এমন সচেতন পদক্ষেপ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। তারা জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই এলাকায় মাদকের অবাধ কেনাবেচা নিয়ে অভিভাবকরা চিন্তিত ছিলেন। তাই সন্দেহভাজনদের ওপর স্থানীয় তরুণ ও যুবকরা নজরদারি বাড়ান, যার ফলেই এই বড় চালানটি হাতেনাতে ধরা সম্ভব হয়েছে।
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত নারীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তল্লাশিতে প্রাপ্ত দুই হাজার পিস ইয়াবা জব্দ তালিকাভুক্ত করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আটক নারীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে এই মাদক চক্রের নেপথ্যে থাকা স্থানীয় সহযোগী ইন্না মিয়াসহ জড়িত অন্যান্যদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


