রংপুরের পীরগাছায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ছেলের ছুরিকাঘাতে মাহাবুর রহমান (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার চর তাম্বুলপুর ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকে তাঁর ছেলে হাসানুর রহমান (২২) পলাতক রয়েছেন।
নিহত মাহাবুর রহমান চর তাম্বুলপুর ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে হাসানুরের বিয়ে হয় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার লাকসাম গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে। বিয়ের পর থেকে হাসানুর নিয়মিত কোনো কাজকর্ম করতেন না বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য তৈরি হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী রাগ করে বাবার বাড়িতে চলে যান।
স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যাওয়ার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গেও হাসানুরের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিমান করে হাসানুর বাড়িতে খাওয়াদাওয়াও বন্ধ করে দেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
শুক্রবার সকালে হাসানুরের শাশুড়ি কয়েকজন আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে মেয়েকে নিয়ে তাঁদের বাড়িতে আসেন। সেখানে তাঁদের সঙ্গে হাসানুরের কথাকাটাকাটি হয়। তিনি শাশুড়ি ও তাঁর সঙ্গে আসা স্বজনদের ঘরে বসতে দেওয়া কিংবা আপ্যায়ন করতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
পরে রাতের দিকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত নয়টার দিকে মাহাবুর রহমান তাঁর ছেলেকে শাশুড়িকে সঙ্গে নিয়ে খাবার খেতে বলেন। কিন্তু হাসানুর এতে রাজি হননি। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে মাহাবুর ছেলেকে চড় মারেন।
বাবার ওই আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে হাসানুর ঘর থেকে একটি ধারালো ছুরি নিয়ে বের হন বলে অভিযোগ। এরপর তিনি বাবার বুকে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় মাহাবুর মাটিতে লুটিয়ে পড়লে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন।
পরে স্থানীয় লোকজন মাহাবুর রহমানকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের পাশাপাশি ঘটনাটি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর অভিযুক্ত হাসানুর রহমান ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তাঁকে ধরতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছে পীরগাছা থানা। পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, হাসানুরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ময়নাতদন্ত শেষে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলছে।
পারিবারিক বিরোধ থেকে সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, ছুরিকাঘাতের পরিস্থিতি এবং এর পেছনে অন্য কোনো বিরোধ ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে। পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন থেকে মৃত্যুর বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।


