পাঞ্জাবি গায়ক গুলাব সিধুর বাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় সিধু মোশেওয়ালার সাবেক সহযোগী শগনপ্রীত সিংয়ের বাবা সৌদাগর সিংকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পাঞ্জাবের বারনালা পুলিশ। শুক্রবার খন্না এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় শগনপ্রীত সিং ও তার বাবা সৌদাগর সিং—দুজনকেই আসামি করা হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী রাতে বারনালা জেলার ফারওয়াহি গ্রামে গুলাব সিধুর বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। তিন মুখোশধারী ব্যক্তি বাড়িতে গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। হামলার সময় গুলাব সিধু অস্ট্রেলিয়ায় ছিলেন। তবে তার বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানরা বাড়ির ভেতরেই ছিলেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা মোট ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়ে। বাড়ির লোকজন উপস্থিত থাকা অবস্থায় এমন হামলার ঘটনা এলাকায়ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। গুলাব সিধু নিজে তখন দেশের বাইরে থাকায় হামলার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না।
বারনালার পুলিশ সুপার সঞ্জীব গোয়াল সৌদাগর সিংয়ের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের সিআইএ শাখার কর্মকর্তা বলজিৎ সিং জানান, শগনপ্রীত সিং বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তার বাবা শুক্রবার খন্না থেকে গ্রেপ্তার হন। হামলায় সৌদাগর সিংয়ের নির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় সৌদাগর সিংকে গ্রেপ্তারের আগে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাদের মধ্যে গুলিবর্ষণে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে গুরবিন্দর সিং ও গুরপিয়ার সিং রয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্য অভিযুক্তদের কেউ হামলায় ব্যবহৃত গাড়ির ব্যবস্থা, কেউ অন্যান্য সহযোগিতা এবং কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সহায়তা করেছিলেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে বেশ কিছু অস্ত্র ও যানবাহনও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে তিনটি পিস্তল ও ম্যাগাজিন, ১০টি জীবন্ত গুলি এবং পাঁচটি ব্যবহৃত কার্তুজ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া একটি এরটিগা গাড়ি ও দুটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, গুলাব সিধুর বাড়িতে হামলার সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত গ্যাং সদস্যদের সংশ্লিষ্ট একটি চাঁদাবাজি চক্রের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। তদন্তকারীরা আরও দাবি করেছেন, অভিযুক্তরা অন্য একটি বড় ধরনের অপরাধের পরিকল্পনাও করছিল। তবে ওই পরিকল্পনার ধরন এবং এতে কারা জড়িত ছিল, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ।
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ডোনি বালের নামে এক ব্যক্তিকে হামলার দায় স্বীকার করতে শোনা যায়। অডিওতে গুলাব সিধুর বিরুদ্ধে সিধু মোশেওয়ালার নাম ব্যবহার এবং মোশেওয়ালার হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়।
তবে অডিওটির সত্যতা এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ। ফলে ওই রেকর্ডে করা অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। তদন্তকারীরা অডিওটির উৎস ও সত্যতা যাচাই করছেন।
ঘটনার পর বারনালা সদর থানায় হত্যাচেষ্টা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অস্ত্রসহ দাঙ্গা এবং বেআইনি সমাবেশের অভিযোগে মামলা করা হয়। পরে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধসংক্রান্ত ধারাও মামলায় যুক্ত করা হয়েছে।
গুলাব সিধু পাঞ্জাবি সংগীতের পরিচিত শিল্পী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অনুসারী রয়েছে। তিনি প্রয়াত সিধু মোশেওয়ালার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। ফলে তার বাড়িতে হামলার ঘটনায় মোশেওয়ালার পুরোনো সহযোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম সামনে আসায় বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।
সিধু মোশেওয়ালা ২০২২ সালের ২৯ মে পাঞ্জাবের মানসায় গুলিতে নিহত হন। তার হত্যাকাণ্ডের পর পাঞ্জাবের সংগীতাঙ্গন, অপরাধচক্র, হুমকি ও চাঁদাবাজি নিয়ে একাধিক তদন্ত ও বিতর্ক সামনে আসে। মোশেওয়ালার সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে যুক্ত ব্যক্তিদের ঘিরেও পরবর্তী সময়ে নানা অভিযোগ ও তদন্তের খবর প্রকাশিত হয়েছে।
গুলাব সিধুর বাড়িতে গুলির ঘটনায় এখন পর্যন্ত একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হলেও হামলার পেছনে মূল উদ্দেশ্য এবং প্রত্যেক অভিযুক্তের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হচ্ছে। দেশের বাইরে থাকা শগনপ্রীত সিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ, সৌদাগর সিংয়ের সম্ভাব্য ভূমিকা এবং কথিত চাঁদাবাজি চক্রের সঙ্গে হামলার সম্পর্ক—এসব বিষয়ও পুলিশের তদন্তের আওতায় রয়েছে।


