বৃষ্টিতে সেমিফাইনালও ভেসে গেলে বিপদে বাংলাদেশ

এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর পুরুষ ক্রিকেটে বৃষ্টি যেন এখন ফল নির্ধারণের প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠেছে। জাপানের আইচি-নাগোয়া অঞ্চলে টানা বৃষ্টির কারণে কোয়ার্টার ফাইনালের চারটি ম্যাচের একটিতেও একটি বল মাঠে গড়ায়নি। ফলে মাঠের পারফরম্যান্স ছাড়াই র‌্যাঙ্কিং ও সিডিংয়ের ভিত্তিতে চার দল উঠে গেছে সেমিফাইনালে। বাংলাদেশও সেই তালিকায় আছে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল মালয়েশিয়া। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই স্পষ্ট হয়ে যায়, মাঠ খেলার উপযোগী হওয়ার সম্ভাবনা নেই। শেষ পর্যন্ত টসও হয়নি। বৃষ্টির কারণে ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলে আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ সেমিফাইনালের টিকিট পেয়ে যায়।

একইভাবে আগের তিন কোয়ার্টার ফাইনালেও বৃষ্টির কারণে খেলা হয়নি। পাকিস্তান-হংকং এবং ভারত-আফগানিস্তানের ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পর পাকিস্তান ও ভারত র‌্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে শেষ চারে যায়। মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কা-নেপাল ম্যাচও বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় শ্রীলঙ্কা সেমিফাইনালে উঠে যায়।

ফলে সেমিফাইনালের লড়াই এখন নির্ধারিত—ভারতের মুখোমুখি শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। দুই সেমিফাইনালই ১ অক্টোবর খেলার সূচিতে রয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের জায়গাটা এখানেই। কোয়ার্টার ফাইনালের মতো সেমিফাইনালও যদি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়, তাহলে মাঠে কোনো বল না গড়িয়েও ফাইনালের দল নির্ধারিত হতে পারে র‌্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে। বর্তমান আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তান বাংলাদেশের চেয়ে ওপরে থাকায়, পুরো ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে পাকিস্তানের ফাইনালে ওঠার সুযোগ থাকবে। একই নিয়ম অন্য সেমিফাইনালে প্রয়োগ হলে ভারতও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এগিয়ে থাকবে।

অর্থাৎ বাংলাদেশের সামনে পাকিস্তানকে হারানোর পাশাপাশি আরেকটি অদৃশ্য প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে আবহাওয়া। মাঠে খেলা হলে বাংলাদেশের হাতে থাকবে ব্যাট-বল দিয়ে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ। কিন্তু বৃষ্টি খেলা হতে না দিলে সেই সুযোগই থাকবে না।

এখানে ২০২৩ সালের এশিয়ান গেমসের ঘটনাটিও গুরুত্বপূর্ণ। হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে ভারত-আফগানিস্তানের পুরুষ ক্রিকেটের ফাইনাল বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছিল। ম্যাচে আফগানিস্তান ১৮.২ ওভারে ৫ উইকেটে ১১২ রান করার পর আর খেলা সম্ভব হয়নি। ভারতের উচ্চতর সিডিংয়ের কারণে তাদের সোনা দেওয়া হয়েছিল এবং আফগানিস্তান পেয়েছিল রুপা।

তবে ২০২৬ সালের আসরে ফাইনাল নিয়ে নিয়মে পরিবর্তনের কথা একাধিক প্রতিবেদনে এসেছে। নতুন ব্যবস্থায় ফাইনাল পুরোপুরি পরিত্যক্ত হলে দুই ফাইনালিস্টকে যৌথভাবে সোনা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনগুলো জানিয়েছে। তাই ফাইনাল বৃষ্টিতে ভেসে গেলে আগের আসরের মতো এক দল সোনা ও অন্য দল রুপা পাবে—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়েও বৃষ্টির প্রভাব পড়তে পারে। নির্ধারিত ব্রোঞ্জ-প্লে-অফ ম্যাচে ফল না হলে উচ্চতর সিড পাওয়া দল ব্রোঞ্জ পাওয়ার নিয়মের কথা প্রকাশিত নিয়মভিত্তিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের সেমিফাইনাল-ভাগ্য শুধু ফাইনালে ওঠার সঙ্গে নয়, বাকি পদক-সমীকরণের সঙ্গেও আবহাওয়ার সরাসরি সম্পর্ক তৈরি করছে।

এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে বাংলাদেশের অতীতও অবশ্য আশাবাদ জোগায়। ২০১০ সালে গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে পুরুষ ক্রিকেটের প্রথম আসরেই বাংলাদেশ আফগানিস্তানকে হারিয়ে সোনা জিতেছিল। ফাইনালে পাঁচ উইকেটে জয় পেয়ে দেশের ক্রিকেটে ঐতিহাসিক সাফল্য এনে দিয়েছিল দলটি।

চার বছর পর ২০১৪ সালের ইনচন এশিয়ান গেমসে পুরুষ ক্রিকেটে বাংলাদেশ ব্রোঞ্জ পদক জেতে। হংকংকে হারিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ।

এবার সেই ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের লক্ষ্য আরও বড়। কিন্তু এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে ক্রিকেটারদের দক্ষতার চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বৃষ্টি। কোয়ার্টার ফাইনালে চার ম্যাচেই কোনো বল না হওয়া তারই প্রমাণ।

তাই বাংলাদেশের সমর্থকদের সবচেয়ে বড় চাওয়া এখন খুব সহজ—সেমিফাইনালের দিন যেন অন্তত একটি পূর্ণাঙ্গ ম্যাচ খেলার মতো আবহাওয়া থাকে। কারণ পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে লড়াই করার সুযোগ পেলেই বাংলাদেশ নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতে রাখবে। কিন্তু বৃষ্টি আবারও ম্যাচ কেড়ে নিলে র‌্যাঙ্কিংয়ের হিসাবই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।