ফরিদপুর জেলায় মশাবাহিত ডেঙ্গু এবং সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত এবং ৪২ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই এক দিনে কোনো রোগে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে কারও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ৩০ সেপ্টেম্বরের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ৯ মাসে জেলাজুড়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৬ জন এবং হামের জটিলতায় ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় যে ৩৪ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত স্থান পেয়েছে সদর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রে। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬ জন, জেনারেল হাসপাতালে ৫ জন, বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, ভাঙ্গা ও মধুখালীতে ৩ জন করে, সদরপুরে ২ জন এবং নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে আলফাডাঙ্গা, চরভদ্রাসন ও সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফরিদপুরের সরকারি হাসপাতালগুলোতে সর্বমোট ৮৬৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। জেলাজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ১২০ জন রোগী, যার মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৬ জন। বর্তমানে ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৭৪৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছেন।
অন্যদিকে, ডেঙ্গুর পাশাপাশি জেলায় হাম রোগের আক্রমণও সমানভাবে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া ৪২ জন নতুন হাম রোগীর মধ্যে ফরিদপুর জেলার নিজস্ব অধিবাসী ২৯ জন এবং প্রতিবেশী অন্যান্য জেলা থেকে আসা রোগীর সংখ্যা ১৩ জন। রোগীদের মধ্যে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১২ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ জন ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে এই দুই হাসপাতালে মোট ৯৪ জন হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪২ জন।
চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ফরিদপুরে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩০৮ জনে। উপজেলাওয়ারী হিসেবে এখন পর্যন্ত বোয়ালমারীতে ২৮, ভাঙ্গায় ১২, চরভদ্রাসনে ১৭, নগরকান্দায় ২, মধুখালীতে ৬, সদরপুরে ১৪, সালথায় ২৩ এবং ফরিদপুর সদরে ৫ জন সন্দেহভাজন রোগী চিহ্নিত হয়েছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান জানান, প্রতিদিন ডেঙ্গু ও হাম নিয়ে বহু রোগী হাসপাতালে আসছেন। প্রতিটি হাসপাতালে আক্রান্তদের সঠিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সাথে ডেঙ্গু প্রতিরোধে লার্ভা ধ্বংস এবং হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি জোরদারের বার্তা দিয়েছেন তিনি।


