দেশে হামের সংক্রমণ ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১৫৩ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হেলথ বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে যে আটজন মারা গেছেন, তাঁদের সবাই ঢাকায় মারা গেছেন। নতুন রোগী ভর্তি এবং মৃত্যুর এই পরিসংখ্যানের ফলে চলতি বছরে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০২ জনে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ২০ জনের। অর্থাৎ নিশ্চিত হাম ও সন্দেহজনক বা উপসর্গজনিত মৃত্যু মিলিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ১২২ জন।
নতুন রোগী ভর্তির হিসাবে সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা গেছে ঢাকা বিভাগে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৪৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরপর চট্টগ্রাম বিভাগে ২২৪ জন এবং বরিশালে ১৩৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। সিলেটে ভর্তি হয়েছেন ১৫৮ জন। এছাড়া খুলনায় ৭৩ জন, ময়মনসিংহে ৪৯ জন, রংপুরে ৩৯ জন এবং রাজশাহীতে ২৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৫৬ জন। অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও বিপুল সংখ্যক রোগীকে এখনো হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
এদিকে হাসপাতালভিত্তিক ভর্তির হিসাবের বাইরে গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ১৯৭ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষায় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত হিসাব অনুযায়ী নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২১ হাজার ৬৬৬ জনের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হাম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় সন্দেহজনক রোগী, নিশ্চিত রোগী, হাসপাতালে ভর্তি, সুস্থ হয়ে ছাড়প্রাপ্ত এবং মৃত্যু—এসব তথ্য আলাদাভাবে নথিভুক্ত করা হয়। ফলে ‘হামে মৃত্যু’ এবং ‘হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু’—দুই ধরনের সংখ্যা আলাদা করে দেখা হচ্ছে। এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামজনিত হিসেবে গণ্য করা হয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপও বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে হাম ছড়িয়ে পড়লে জ্বর, শরীরে র্যাশসহ নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে এবং জটিলতা তৈরি হলে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চলমান পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে হিসাব শুরু হওয়ার পর সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা প্রায় দুই লাখে পৌঁছেছে। একই সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২১ হাজারের বেশি মানুষের। নতুন করে মৃত্যুর পাশাপাশি প্রতিদিন শত শত রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা দেশের হাম পরিস্থিতির ওপর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার চাপের বিষয়টিও সামনে আনছে।


