সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় স্বামী তাকে ঘুরতে নিয়ে যান না এবং অবসর সময় বাইরে কাটাতে আগ্রহ দেখান না—এমন অভিযোগে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছেন এক নারী। বিষয়টি নিয়ে তিনি শারজাহ আদালতের পারিবারিক পরামর্শ বিভাগের দ্বারস্থ হন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সামা টিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। শারজাহ আদালতের পারিবারিক পরামর্শ বিভাগের পরিচালক ড. রাধিয়া হাসান আল রাইসি একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে ওই ঘটনার কথা তুলে ধরেন।
ড. আল রাইসি জানান, ওই নারী অভিযোগ করেন, তার স্বামী বেশিরভাগ সময় বাড়িতে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। পরিবার নিয়ে বাইরে বের হওয়া, ঘোরাঘুরি করা কিংবা ভ্রমণে যাওয়ার বিষয়ে তার তেমন আগ্রহ নেই। স্ত্রীর কাছে বিষয়টি ধীরে ধীরে হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একপর্যায়ে তিনি বিবাহবিচ্ছেদের কথা ভাবেন এবং এ বিষয়ে পরামর্শ নিতে পারিবারিক পরামর্শ বিভাগে যান।
তবে স্বামীর বিরুদ্ধে গুরুতর কোনো অভিযোগ করেননি ওই নারী। বরং তিনি তার স্বামীর ব্যক্তিত্বের ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বামী উদার, ধৈর্যশীল এবং ভদ্র। মূল সমস্যা হচ্ছে বাইরে ঘোরাঘুরি ও অবসর বিনোদনের ক্ষেত্রে দুজনের পছন্দের পার্থক্য।
পরামর্শ বিভাগ থেকে ওই নারীকে পরিস্থিতি নিয়ে আরও ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্য, ভাই-বোন কিংবা অন্য স্বজনদের সঙ্গে বাইরে ঘোরাঘুরি করে নিজের অবসর সময় উপভোগ করার কথাও বলা হয়। একই সঙ্গে শুধু ঘুরতে যাওয়া বা বিনোদনের পছন্দ নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে যেন তাড়াহুড়ো করে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত না নেন, সে বিষয়ে তাকে সতর্ক করা হয়।
পারিবারিক পরামর্শ বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করেন, একটি দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ। দুজনের জীবনযাপন, অবসর কাটানোর ধরন কিংবা বিনোদনের পছন্দ এক না-ও হতে পারে। এসব পার্থক্য থাকলেই সম্পর্ক ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন নেই।
ড. আল রাইসি বলেন, স্বামী-স্ত্রীর জীবনযাপন ও অবসর কাটানোর পছন্দে পার্থক্য কখনো কখনো অস্বস্তি বা উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তবে প্রতিটি মতবিরোধের শেষ পরিণতি বিচ্ছেদ হওয়া উচিত নয়। দাম্পত্য জীবনে বড় কোনো সমস্যা বা গুরুতর বিরোধ না থাকলে ছোটখাটো মতপার্থক্যকে বড় পারিবারিক কিংবা আইনি বিরোধে পরিণত না করার পরামর্শ দেন তিনি।
ঘটনাটি মূলত দাম্পত্য সম্পর্কে প্রত্যাশা ও ব্যক্তিগত পছন্দের পার্থক্যের বিষয়টি সামনে এনেছে। এক পক্ষ যদি বাইরে ঘোরাঘুরি ও একসঙ্গে সময় কাটানোকে সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করেন, অন্য পক্ষ হয়তো ঘরেই সময় কাটাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে ভারসাম্য তৈরি করাই পারিবারিক পরামর্শ বিভাগের পরামর্শের মূল বিষয়।


