কাজী হাবিবুর রহমানকে আটকে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি: যুবদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

মুন্সীগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে কাবিন ও বিয়ে নিবন্ধনের কাজে যুক্ত এক কাজীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে আটকে রেখে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ ও মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত যুবদল নেতা ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে। আটক ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত মূল অভিযুক্তের নাম রাজীব হোসেন। তিনি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার সাথে গ্রেপ্তার হওয়া অপর সহযোগীর নাম স্বপন।
ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার কাটাখালী এলাকায় প্রায় ২০ বছর ধরে সুনামের সাথে কাজী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন মো. হাবিবুর রহমান। তিনি এক সংবাদকর্মীর বাবা। ঘটনার দিন গত রোববার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে হাবিবুর রহমান নিজের কাটাখালীর বাসায় অবস্থান করছিলেন। ওই সময় রাজীব ও স্বপনসহ কয়েকজন ব্যক্তি তিনটি মোটরসাইকেল নিয়ে তার বাড়ির সামনে এসে হাজির হন। তারা একটি বিয়ে পড়ানোর কথা বলে কাজীকে ডেকে নেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়ি থেকে বের করার পর প্রথমে তাকে স্থানীয় কাজী অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে জোরপূর্বক তাকে মুক্তারপুর এলাকার একটি নির্জন কক্ষে আটকে রাখা হয়। আটক অবস্থায় স্বপন নামের ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তার স্ত্রী ইতি গত ১ অক্টোবর কাজী হাবিবুর রহমানের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে নিয়ম মেনে তালাক দিয়েছেন এবং কাজী সেই তালাক নিবন্ধন করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাজীর ওপর চড়াও হন অভিযুক্তরা।
একপর্যায়ে তারা কাজী হাবিবুর রহমানকে কাজীর লাইসেন্স বাতিল করা এবং প্রাণনাশের সরাসরি হুমকি দিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ও নিজের জীবন রক্ষার্থে কাজী হাবিবুর রহমান তাদের দাবিকৃত টাকা দিতে সম্মত হন। পরে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি-এর মুন্সীগঞ্জ শাখা থেকে নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে নগদ দুই লাখ টাকা উত্তোলন করে অভিযুক্তদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। টাকা হস্তান্তরের সময় কাজীর স্ত্রী নাসিমা বেগমও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অর্থ হাতে পাওয়ার পর অভিযুক্তরা তাকে মুক্তি দেয়।
ঘটনার পরদিন সোমবার রাতে ভুক্তভোগী কাজী হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় রাজীব, স্বপন ও কাটাখালী এলাকার সোহেলসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পরপরই সোমবার রাতে পঞ্চসার ইউনিয়নের মুক্তারপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজীব ও স্বপনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ভুক্তভোগীর সন্তান জানান, ঘটনাটি ঘটে যাওয়ার পর থেকেই তা স্থানীয়ভাবে ধামাচাপা দেওয়ার নানা চেষ্টা চালানো হয়েছিল। এমনকি পরিবারটিকে আইনি পদক্ষেপে না যাওয়ার জন্য ভয়ভীতিও দেখানো হয়। তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রাথমিক তদন্ত শেষে অভিযুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের থানায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দুপুরের দিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।