কেন্দুয়ায় বিএনপির কোন্দল ও মাছ পরিবহণ বিরোধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ৩৫

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় রাজনৈতিক কোন্দল, স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সম্মেলনে সমর্থন দেওয়া নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং পুকুরের মাছ পরিবহণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁদের নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতাল এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও এলাকা সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইফরান মিয়ার সঙ্গে স্থানীয় সুনু মিয়া ও শাকিল পক্ষের তীব্র রাজনৈতিক বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই সম্মেলনে ইফরানকে সমর্থন না দেওয়া থেকেই এই দ্বন্দ্বে ফাটল ধরে। সম্প্রতি এই পুরোনো রাজনৈতিক কোন্দলের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয় স্থানীয় মৎস্যচাষি আব্দুর রহমান ওরফে ইয়ারখানের বাণিজ্যিক মাছ পরিবহণ সংক্রান্ত বিবাদ। আব্দুর রহমানের মাছের ট্রাক চলাচলে সুনু ও শাকিল পক্ষের লোকজনের বাধার মুখে স্থানীয় বিএনপি নেতা ইফরান মিয়া প্রকাশ্যে মৎস্যচাষির পক্ষ অবলম্বন করেন। এতে দুই সামাজিক ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়।
সুনু মিয়ার পক্ষের লোকজনের অভিযোগ, বুধবার সকালে সুনু মিয়া স্থানীয় বাজার থেকে কেনাকাটা শেষে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে নওপাড়া গ্রামের রাস্তার ওপর ইফরান মিয়ার সমর্থকরা ওত পেতে থেকে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলার খবর দ্রুত গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের শত শত লোক দেশীয় ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং নারীসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হন।
সংঘর্ষে সুনু মিয়া পক্ষের গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন—বাবুল মিয়া, কাঞ্চন মিয়া, সোহেল মিয়া, সৃজল হক, বকুলা আক্তার এবং বাচ্চু মিয়া। অন্যদিকে ইফরান ও আব্দুর রহমান পক্ষের গুরুতর আহতদের তালিকায় রয়েছেন—নজরুল ইসলাম, সাইকুল ইসলাম ও দেলোয়ার মিয়া। বাকি আহতদের কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনা সম্পর্কে সুনু মিয়া বলেন, দলীয় সম্মেলনে ইফরানকে সমর্থন না করায় আমাদের ওপর আগে থেকেই ক্ষোভ ছিল। তার ওপর আব্দুর রহমান গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা দিয়ে ভারি ট্রাক নামিয়ে সরকারি রাস্তা নষ্ট করছিলেন। এতে পুরো গ্রামবাসী বাধা দিলে ইফরানের লোকজন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আব্দুর রহমানের সঙ্গে জোট বেঁধে আমাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালায়।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে মৎস্যচাষি আব্দুর রহমানের ছেলে আল মামুন বলেন, আমরা কয়েকটি বাণিজ্যিক পুকুরে মাছ চাষ করেছি। মাছের চালান বিক্রির জন্য বড় গাড়ি আনতে গেলে সুনু ও শাকিলের লোকজন বারবার অন্যায়ভাবে গাড়ি চলাচলে বাধা দেয়। পরে গ্রামের রাস্তার ক্ষতি এড়াতে ছোট যানবাহন আনার প্রস্তাব করলেও তারা আমাদের বিপুল টাকার ক্ষতি সাধন করে গাড়ি আটকে দেয় এবং অহেতুক সংঘর্ষের জন্ম দেয়।
তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইফরান মিয়া ফোনে জানান, সংঘর্ষের ঘটনা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছুই জানেন না এবং এর সঙ্গে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। বর্তমানে পেমই পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা নওপাড়া গ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।