কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। রাজধানীর ধানমন্ডিতে তাকওয়া মসজিদ এলাকায় রোববার, ১১ অক্টোবর বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এতে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ সময় কয়েকজনকে আটক করে পুলিশের ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
রোববার বাদ আসর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে রোটনের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হলে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ওঠে। তবে ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে, কারা প্রথম হামলা চালিয়েছেন এবং সংঘর্ষের পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছিল কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৪টার পর থেকে মসজিদসংলগ্ন এলাকায় হামলা ও আটকের ঘটনা ঘটতে থাকে। এতে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী আহত হন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়। তবে আটক ব্যক্তিদের পরিচয়, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়েছে কি না এবং তাঁদের কোথায় নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পরপরই আহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও স্পষ্ট তথ্য জানা যায়নি। একইভাবে হামলার অভিযোগ নিয়ে পুলিশ, বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট নেতাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ সীমিত ছিল।
রাজনৈতিক বিরোধের জেরে কোনো জানাজা বা শোকানুষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে তা জননিরাপত্তা ও নাগরিকদের ধর্মীয় অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। জানাজা মূলত মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া এবং তাঁকে শেষ বিদায় জানানোর ধর্মীয় আয়োজন। এমন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে ধানমন্ডির এ ঘটনায় পুলিশ আগে থেকে কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
কলকাতার হাসপাতালে মৃত্যু রোটনের
মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন গত শনিবার, ১০ অক্টোবর, কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পরদিন ঢাকার ধানমন্ডিতে জানাজার আয়োজন করা হয়।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে একসময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা রোটন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন মাহমুদ হাসান রিপন। ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিতি পাওয়া রোটন পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। পরে ২০২১ সালে তাঁকে আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দলীয় রাজনীতিতে তাঁর সম্পৃক্ততার পরিচয় পাওয়া যায়।
তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা
রোটনের জানাজাকে কেন্দ্র করে ধানমন্ডিতে ঘটে যাওয়া হামলার অভিযোগের বিষয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য সামনে আসেনি। কারা হামলায় অংশ নিয়েছেন, কতজন আহত হয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে এবং এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরও স্পষ্ট নয়।
ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানতে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, আহত ব্যক্তিদের পরিচয়, পুলিশের ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষগুলোর বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে তার ভিত্তি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ করাও প্রয়োজন।
রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। একইভাবে হামলার অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। রোটনের জানাজায় অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের ওপর হামলার অভিযোগ সত্য হলে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসবে। তবে আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া এ ঘটনায় দায় নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।


