যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের একের পর এক কৌশলগত ভুলে এখন বিপাকে সৌদি আরব। ইয়েমেনের হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি আর যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা—সব মিলিয়ে নতুন সংকটে পড়েছে রিয়াদ।
যে যুবরাজ সৌদি আরবকে বিনিয়োগ, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, তাঁর সেই স্বপ্নই এখন হুমকির মুখে। প্রশ্ন উঠছে, তাঁর সিদ্ধান্তগুলোই কি সৌদি আরবকে এমন এক যুদ্ধে টেনে এনেছে, যেখান থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন?
সংকটের প্রথম কারণ, ইয়েমেনে মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব। একসময় আমিরাতের সঙ্গে মিলে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়েছে সৌদি আরব। কিন্তু দুই দেশের বিরোধের জেরে আমিরাতের সেনারা সরে যাওয়ার পর সেই শূন্যতা পূরণ করতে পারেনি রিয়াদ। ফলে দুর্বল হয়ে পড়ে হুথিবিরোধী বাহিনী।
দ্বিতীয় ভুল, হুথিদের পাল্টা হামলার জন্য যথেষ্ট প্রস্তুতি না রাখা। নতুন করে শুরু হওয়া হামলায় সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও পাইপলাইন ঝুঁকিতে পড়েছে। পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েও সংঘাত নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে উঠছে।
এরপর আসে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতার প্রশ্ন। দীর্ঘদিন সৌদি আরব নিজেদের নিরাপত্তার জন্য ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভর করেছে। কিন্তু সংকটের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের চাওয়া অনুযায়ী হুথিদের বিরুদ্ধে হামলায় রাজি হননি। বরং হুথিদের সঙ্গে আলোচনার পথ বেছে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এতে মার্কিন সহায়তার নিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে রিয়াদের।
এই সংঘাতের প্রভাব পড়ছে সৌদি আরবের অর্থনীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনায়ও। নিরাপত্তা ঝুঁকিতে তেল রপ্তানি ও বড় আয়োজনগুলো চাপের মুখে পড়েছে। বিনিয়োগ ও পর্যটনের কেন্দ্র হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নও কঠিন হয়ে উঠছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন মিসর, তুরস্ক, পাকিস্তান, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে সৌদি আরব। আমিরাতের সঙ্গেও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত মিলছে। তবে সংকটের স্থায়ী সমাধান এখনো অনিশ্চিত।
মোহাম্মদ বিন সালমানের লক্ষ্য ছিল তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌদি আরবকে শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত করা। কিন্তু যুদ্ধ, নিরাপত্তা সংকট ও কূটনৈতিক ভুল সেই পরিকল্পনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন প্রশ্ন, রিয়াদ কি এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে, নাকি ইয়েমেনের যুদ্ধই যুবরাজের স্বপ্নকে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তায় ফেলবে?


