নিহত নজরুল ইসলামের বয়স ৬২ বছর। তিনি জিংলাতলী গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে। তাঁর স্ত্রীর নাম ঝরনা বেগম, বয়স ৪৮ বছর।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, সকালে প্রাতর্ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন নজরুল ইসলাম ও ঝরনা বেগম। তাঁরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এক পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাতনামা গাড়ি তাঁদের চাপা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। এতে তাঁরা গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেমলাল দাস জানান, অজ্ঞাতনামা একটি গাড়ির চাপায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়িটি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ জন্য মহাসড়কে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হবে।
দুর্ঘটনার পর গাড়িটি শনাক্ত করা এবং এর চালককে আইনের আওতায় আনা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে বিপুলসংখ্যক যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করে। ব্যস্ত এই সড়কে পথচারীদের চলাচলের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে ভোরের দিকে সড়কে দৃশ্যমানতা, যানবাহনের গতি এবং পথচারীদের নিরাপদে চলাচলের সুযোগ দুর্ঘটনার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।
তবে দাউদকান্দির এই দুর্ঘটনায় ঠিক কী কারণে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল বা কী পরিস্থিতিতে দম্পতিকে চাপা দিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে গাড়িটি শনাক্ত করতে পারলে দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে জানা যেতে পারে।


