সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের মাহমুদপুর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত মাকসুদা বেগম ওই এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত নাজির সরদারের স্ত্রী।
নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাকসুদা বেগমের ছেলে জজ মিয়া স্থানীয় ব্যবসায়ী সাদ্দামের কাছে একটি স্টিল মিলের জন্য দুই ট্রাক লোহা বিক্রি করেছিলেন। ওই লোহা বিক্রির বিপরীতে সাদ্দামের কাছে জজ মিয়ার প্রায় ১০ লাখ টাকা পাওনা ছিল। এই টাকা পরিশোধকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
সোমবার রাতে পাওনা টাকা চাইতে জজ মিয়া তাঁর মা মাকসুদা বেগম ও ভাই রাসেলকে সঙ্গে নিয়ে সাদ্দামের কাছে যান। সেখানে টাকা পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের লোকজন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষের সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মধ্যে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মাকসুদা বেগম ও তাঁর ছেলে রাসেল গুরুতর আহত হন। অপর পক্ষের ব্যবসায়ী সাদ্দামও রক্তাক্ত হন। এ ছাড়া সংঘর্ষে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে আহত সবার পরিচয় এবং তাঁদের আঘাতের বিস্তারিত বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাকসুদা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অন্য ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, ব্যবসায়িক পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরেই এই সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রায় ১০ লাখ টাকার ব্যবসায়িক লেনদেনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ কীভাবে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নিল, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। একই সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করাও তদন্তের অংশ। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে একজন প্রবীণ নারীর মৃত্যুতে স্থানীয় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


