সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদ অভিমুখে আসছিল। জোটের প্রতিরক্ষা বাহিনী সেটি প্রতিহত করেছে। এ ছাড়া খামিস মুশাইত লক্ষ্য করে ছোড়া আরও দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়েও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
গত কয়েক দিনে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একের পর এক হামলার পর পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে সর্বশেষ হামলায় কোথায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ঠিক কীভাবে প্রতিহত করা হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
রিয়াদ সৌদি আরবের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র। রাজধানীকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা দেশটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াতে পারে। বিশেষ করে একই সময়ে রাজধানী এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আরেকটি শহর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার খবর পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরছে।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক হস্তক্ষেপের পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়। বিভিন্ন সময়ে হুতিরা সৌদি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও ইয়েমেনে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে।
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণত নির্দিষ্ট গতিপথ অনুসরণ করে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে প্রতিরক্ষা বাহিনী কোনো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি জানালেও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
রিয়াদে টানা তৃতীয় দিনের হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে হামলার পরবর্তী পরিস্থিতি, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার বিস্তারিত তথ্য এবং এর জেরে সৌদি কর্তৃপক্ষের সম্ভাব্য পদক্ষেপ সম্পর্কে এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।


