গোল করার ধারাবাহিকতায় আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন হ্যারি কেইন। চ্যাম্পিয়নস লিগে ৩০ বছর বয়সের পর গোল করার হিসাবে লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন বায়ার্ন মিউনিখের এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড। এবার তাঁর সামনে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রেকর্ডের দিকে এগিয়ে যাওয়ার হাতছানি।
ভাইকিংয়ের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন কেইন। তবে তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য সত্ত্বেও ম্যাচটি জিততে পারেনি বায়ার্ন মিউনিখ। দুই দল ৩-৩ গোলে ড্র করেছে। এই ম্যাচে করা গোল দুটিই কেইনকে পৌঁছে দিয়েছে নতুন এক মাইলফলকে।
৩০ বছর বয়স পূর্ণ করার পর চ্যাম্পিয়নস লিগে কেইনের গোলসংখ্যা এখন ৩৬। একই বয়সসীমায় মেসির গোলসংখ্যা ৩৫। ফলে এই পরিসংখ্যানে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অধিনায়ককে পেছনে ফেলেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক।
ম্যাচের সংখ্যার হিসাবেও এগিয়ে কেইন। মেসি ৪৮ ম্যাচে ৩৫ গোল করেছেন। অন্যদিকে, কেইন মাত্র ৪০ ম্যাচেই করেছেন ৩৬ গোল। অর্থাৎ, মেসির চেয়ে আটটি ম্যাচ কম খেলেও একটি গোল বেশি করেছেন বায়ার্নের এই তারকা।
তবে এই তালিকায় এখনো অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ৩০ বছর বয়সের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে তাঁর গোলসংখ্যা ৬৮, যা এসেছে ৭৪ ম্যাচে। কেইনের বর্তমান অর্জন তাঁকে রোনালদোর কাছাকাছি নিয়ে গেলেও ব্যবধান ঘোচাতে আরও অনেক গোল করতে হবে।
টানা গোলের রেকর্ডেও নজর কেইনের
শুধু বয়সভিত্তিক গোলের পরিসংখ্যানেই নয়, টানা ম্যাচে গোল করার কীর্তিতেও রোনালদোর দিকে তাকিয়ে রয়েছেন কেইন। ভাইকিংয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা নয় ম্যাচে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি।
এই কীর্তিতে কেইনের সঙ্গে রয়েছেন পোল্যান্ডের স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডফস্কি এবং নেদারল্যান্ডসের সাবেক তারকা রুড ফন নিস্টেলরয়। তাঁরাও চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা নয় ম্যাচে গোল করেছিলেন। তবে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন রোনালদো। পর্তুগিজ তারকা টানা ১১ ম্যাচে গোল করে রেকর্ডটি নিজের করে রেখেছেন।
কেইনের সামনে এখন সেই রেকর্ডে ভাগ বসানোর সুযোগ। টানা গোল করার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে প্রথমে রোনালদোর কীর্তি স্পর্শ করার পথে এগোতে পারবেন তিনি। এরপর সেটি ছাড়িয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জও থাকবে।
চলতি মৌসুমে কেইনের পারফরম্যান্সও বেশ উজ্জ্বল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নয় ম্যাচে আটটি গোল করেছেন ৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে চারটি গোল করিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ, শুধু নিজে গোল করাই নয়, দলের আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন কেইন।
বায়ার্ন মিউনিখের আক্রমণভাগে কেইনের ধারাবাহিকতা দলটির জন্য বড় শক্তি। গোল করার পাশাপাশি তাঁর অভিজ্ঞতা ও সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা তাঁকে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে।
মেসিকে ছাড়িয়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে কেইনের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য অর্জন। তবে তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রোনালদোর দীর্ঘদিনের রেকর্ডগুলোতে পৌঁছানো। বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারলে চ্যাম্পিয়নস লিগে আরও নতুন মাইলফলক গড়ার সুযোগ থাকবে ইংল্যান্ডের এই তারকার।


