ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় স্কুলে যাওয়ার পথে আট বছর বয়সী তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে আকিদুল শেখ (২৫) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আকিদুল শেখ আলফাডাঙ্গা উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের সেলিম শেখের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর পুলিশি পাহারায় তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালতের এ রায়ের মধ্য দিয়ে শিশু শিক্ষার্থীর ওপর সংঘটিত গুরুতর অপরাধের মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো। তবে দণ্ড কার্যকরসহ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ভর করবে প্রচলিত আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর।
স্কুলে যাওয়ার পথে ঘটে অপরাধ
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, শিশুটি স্কুলে যাওয়ার পথে ধর্ষণের শিকার হয়। ঘটনার পর রক্তাক্ত অবস্থায় সে বিদ্যালয়ে পৌঁছালে শিক্ষকেরা তার শারীরিক অবস্থা দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। শিশুটির অবস্থা দেখে তাঁরা ঘটনার বিষয়ে জানতে চান এবং পরিবারের সদস্যদের খবর দেন।
পরে শিশুটিকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ধরনের ঘটনায় শিশুর শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক সুরক্ষা ও পুনর্বাসনও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নির্যাতনের শিকার শিশুর পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা, তাকে নিরাপদ পরিবেশে রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
বাবার করা মামলায় তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র
ঘটনার পর ২১ জুন শিশুটির বাবা বাদী হয়ে আকিদুল শেখের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানায় ধর্ষণের মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে পুলিশ সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে এবং তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
পরবর্তী সময়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম চলে। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা ও বিচারপ্রক্রিয়া শেষে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। এরপর তাঁকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেaন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের অপরাধের অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার গুরুত্ব আদালতের রায়ে উঠে এসেছে।
শিশু সুরক্ষায় আইন প্রয়োগের গুরুত্ব
শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা শুধু তাদের শারীরিক নিরাপত্তাকেই বিপন্ন করে না; দীর্ঘমেয়াদে মানসিক স্বাস্থ্য, শিক্ষাজীবন ও স্বাভাবিক সামাজিক বিকাশেও গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে এমন ঘটনা ঘটলে শিশু ও অভিভাবকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। তাই পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
শিশু নির্যাতনের অভিযোগ সামনে এলে দ্রুত চিকিৎসা, আইনি সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষার ব্যবস্থা করা জরুরি। একই সঙ্গে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় শিশুবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা এবং ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশ না করার বিষয়েও সতর্ক থাকতে হয়।
এ মামলায় আদালতের ঘোষিত রায় অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তবে রায়ের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া, আপিলের সুযোগ এবং দণ্ড কার্যকরের বিষয়গুলো প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি হবে। শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সংশ্লিষ্ট সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।


