হারিয়ে যাওয়া লাগেজ উদ্ধারে রাজশাহী জেলা পুলিশ, নাটোর জেলা পুলিশ ও রাজশাহী মহানগর পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। তবে ঠিক কোথায় এবং কীভাবে লাগেজগুলো ভ্যান থেকে উধাও হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডে মিরপুরে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে খেলেছিল রাজশাহী বিভাগ। ম্যাচ শেষে বুধবার সকালে দলের ক্রিকেটাররা আকাশপথে রাজশাহী ফেরেন। অন্যদিকে, আগের রাতে দলের ৫৪টি লাগেজ নিয়ে বিসিবির একটি কাভার্ড ভ্যান ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। পরে সেটি রাজশাহীর পথে রওনা হয়।
মেহেরব হাসানের করা জিডিতে কাভার্ড ভ্যানের চালক সজীবের বক্তব্যের ভিত্তিতে যাত্রাপথের বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, রাজশাহীর পথে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়ে গাড়ির পেছনের দরজা পরীক্ষা করেছিলেন চালক। সে সময় দরজাটি তালাবদ্ধ ছিল বলে তিনি জানান।
পরে নাটোরের বনপাড়া বাইপাস এলাকায় নাশতা করার জন্য প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট বিরতি নেন চালক। এরপর যাত্রা অব্যাহত রাখেন তিনি। তবে এই বিরতির আগে বা পরে ঠিক কখন লাগেজগুলো হারিয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
জিডিতে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে কাভার্ড ভ্যানটি পুঠিয়া বাজারের কাছাকাছি পৌঁছালে পেছন থেকে আসা অন্য একটি গাড়ির চালক সজীবকে জানান, তাঁর গাড়ির পেছনের দরজা খোলা। খবর পেয়ে পুঠিয়া বাজার পার হওয়ার আগেই নাটোরের দিকে একটি জ্বালানি তেলের পাম্পের সামনে গাড়ি থামান সজীব। সেখানে তিনি ভ্যানের পেছনের দরজা খোলা দেখতে পান। এরপর দরজা বন্ধ করে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন।
সকাল ছয়টার দিকে রাজশাহীর একটি হোটেলে পৌঁছানোর পর লাগেজ নামাতে গিয়ে আটটি লাগেজের অনুপস্থিতি ধরা পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে ক্রিকেটারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং পরে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হয়।
জিডিতে বলা হয়েছে, হারিয়ে যাওয়া লাগেজগুলোর মধ্যে কয়েকজন ক্রিকেটারের পাসপোর্ট, আইফোন, মার্কিন ডলার ও কয়েক লাখ টাকা নগদ অর্থসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিল। এসব জিনিস হারিয়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটাররা।
এ বিষয়ে মেহেরব হাসান কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে রাজশাহী বিভাগের অন্য ক্রিকেটাররা ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, আগামী ১৮ নভেম্বর থেকে রাজশাহীর মাঠে চট্টগ্রাম বিভাগের বিপক্ষে তাঁদের খেলার কথা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ব্যক্তিগত মালামাল হারিয়ে যাওয়ায় তাঁরা বাড়তি সমস্যার মুখে পড়েছেন।
রাজশাহী বিভাগীয় দলের ব্যবস্থাপক তৌহিদ তারেক বলেন, ঘটনাটি তাঁদের জন্য বিব্রতকর। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং ক্রিকেটারদের লাগেজ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট পুলিশ ইউনিটগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাটি নাটোর অথবা রাজশাহীর মধ্যে যেকোনো স্থানে ঘটে থাকতে পারে। এ কারণে রাজশাহী জেলা পুলিশ, নাটোর জেলা পুলিশ ও রাজশাহী মহানগর পুলিশ একসঙ্গে তদন্ত করছে।
পুলিশের তদন্তে এখন কাভার্ড ভ্যানের যাত্রাপথ, বিভিন্ন স্থানে বিরতি এবং পেছনের দরজা খোলা থাকার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। লাগেজগুলো কীভাবে উধাও হলো, এর পেছনে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রয়েছে কি না এবং হারানো মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে লাগেজ উদ্ধারের বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।


