ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক শাই হোপের ব্যাটে যেন রানের ফোয়ারা ছুটছে। সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে বড় ইনিংস খেলে নিজের সামর্থ্যের জানান দিচ্ছেন এই ক্যারিবীয় ব্যাটার। সব সংস্করণ মিলিয়ে সর্বশেষ ছয় ইনিংসের চারটিতেই সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। এর মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর পরিসংখ্যান হলো, টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে তাঁর তিনটি সেঞ্চুরির প্রতিটিই অপরাজিত এবং প্রতিবারই তাঁর সংগ্রহ ঠিক ১০২ রান।
গতকাল ভারতের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে হায়দরাবাদে অপরাজিত ১০২ রানের ইনিংস খেলেন হোপ। মাত্র ৫০ বলে সাজানো তাঁর ইনিংসে ছিল নয়টি ছক্কা ও চারটি চার। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ভারতীয় বোলারদের চাপে ফেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বড় সংগ্রহ গড়তে সহায়তা করেন তিনি। এই সেঞ্চুরির মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছালেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক।
হোপের সর্বশেষ ছয় ইনিংসের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, কতটা দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন তিনি। এই ছয় ইনিংসে তাঁর রান যথাক্রমে ১০৪, অপরাজিত ১৬২, ৫২, অপরাজিত ১০২, ৫ ও অপরাজিত ১০২। অর্থাৎ, সাম্প্রতিক সময়ে বড় ইনিংস খেলার পাশাপাশি ইনিংসের শেষ পর্যন্ত উইকেটে থাকার দক্ষতাও দেখিয়েছেন তিনি।
তবে হোপের তিনটি টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় মিলটি রানসংখ্যায়। প্রতিবারই তিনি ১০২ রান করে অপরাজিত থেকেছেন। ক্রিকেটে একই ব্যাটারের একাধিক সেঞ্চুরি করা অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু প্রতিটি সেঞ্চুরিতে একই রানসংখ্যা নিয়ে অপরাজিত থাকা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী ঘটনা। এই পরিসংখ্যানই তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সকে বাড়তি আলোচনায় এনেছে।
ভারতের বিপক্ষে চলতি সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও সেঞ্চুরি করেছিলেন হোপ। রাঁচিতে মাত্র ৪৫ বলে ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। সেই ইনিংসে নয়টি ছক্কার পাশাপাশি ছিল ছয়টি চার। দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি উইকেটে টিকে থেকে দলের স্কোর বড় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক। ভারতের বিপক্ষে তাঁর দুই সেঞ্চুরির ম্যাচেই জয় পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
অবশ্য হোপের প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির সঙ্গে জড়িয়ে আছে হতাশার স্মৃতি। ২০২৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাসেটেরে ৫৭ বলে ১০২ রান করেছিলেন তিনি। আটটি চার ও ছয়টি ছক্কায় সাজানো সেই ইনিংসেও অপরাজিত ছিলেন এই ব্যাটার। কিন্তু তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স শেষ পর্যন্ত দলকে জয় এনে দিতে পারেনি। অস্ট্রেলিয়ার টিম ডেভিড মাত্র ৩৭ বলে সেঞ্চুরি করে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন। ফলে হোপের শতক ব্যক্তিগত অর্জন হয়ে থাকলেও দলীয় সাফল্য অধরাই থেকে যায়।
সব মিলিয়ে ৭৪ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে হোপের সংগ্রহ ২ হাজার ৪ রান। তিনটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি রয়েছে ১৩টি অর্ধশতক। এই পরিসংখ্যান সংক্ষিপ্ত সংস্করণে তাঁর ধারাবাহিকতার পরিচয় দেয়। বিশেষ করে অধিনায়ক হিসেবে দলের ব্যাটিংয়ে তাঁর অবদান ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি উইকেট ধরে রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ। হোপের সাম্প্রতিক ইনিংসগুলোতে এই দুইয়ের সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। তাঁর সেঞ্চুরির ম্যাচগুলোতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দলীয় সংগ্রহ ২০০ রানের সীমা ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ, ব্যক্তিগত মাইলফলকের পাশাপাশি বড় স্কোর গড়তেও কার্যকর ভূমিকা রাখছেন তিনি।
তিনটি সেঞ্চুরি, তিনবারই অপরাজিত থাকা এবং প্রতিবার ১০২ রান—হোপের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের এই অদ্ভুত মিল ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কাড়ার মতো। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য কেবল এই পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়; ধারাবাহিকভাবে রান করে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেওয়ার সামর্থ্যই তাঁকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ করে তুলেছে।


