ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলের ভিলিউচিনস্ক শহর থেকে প্রায় ১২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার গভীরে এর কেন্দ্র ছিল।
ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য সুনামির ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ কম্পনের কারণে সুনামির আশঙ্কা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টারও জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির ফলে সুনামির কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি হয়নি।
তবে ভূমিকম্পের প্রভাবে স্থানীয় জনজীবন, অবকাঠামো কিংবা যোগাযোগব্যবস্থায় কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে আরও তথ্যের প্রয়োজন হবে।
জাপানে ভুল সতর্কতা নিয়ে বিভ্রান্তি
ভূমিকম্পের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাপানের আবহাওয়া সংস্থার (জেএমএ) একটি ভুল আগাম সতর্কতা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিএনও নিউজের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি ভুলবশত ৯.৯ মাত্রার ভূমিকম্পের একটি পূর্বাভাস জারি করেছিল। এতে জাপানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তীব্র কম্পনের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
তবে জাপানের আবহাওয়া সংস্থার নিজস্ব পরিমাপে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬.৯। ফলে প্রাথমিক সতর্কতায় উল্লেখ করা মাত্রার সঙ্গে পরবর্তী পরিমাপের বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যায়।
৯.৯ মাত্রার ভূমিকম্পের পূর্বাভাসটি সঠিক হলে তা হতো এ পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পের চেয়েও বড় ঘটনা। তবে এটি ছিল ভুল সতর্কতা; বাস্তবে ওই মাত্রার ভূমিকম্প ঘটেছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে প্রাথমিক সতর্কতা দ্রুত ঝুঁকি নিরূপণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে প্রাথমিক হিসাব ও পরবর্তী পরিমাপের মধ্যে পার্থক্য দেখা দিতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্য যাচাই এবং হালনাগাদ সতর্কতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কেন বারবার ভূমিকম্পে কাঁপে কামচাতকা?
রাশিয়ার কামচাতকা উপদ্বীপ প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলের অংশ। প্রশান্ত মহাসাগরকে ঘিরে বিস্তৃত এই বলয়ে একাধিক টেকটোনিক প্লেটের পারস্পরিক সংঘর্ষ ও নড়াচড়ার কারণে নিয়মিত ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
টেকটোনিক প্লেটগুলোর সীমানায় দীর্ঘ সময় ধরে চাপ জমতে থাকে। সেই চাপ হঠাৎ মুক্ত হলে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। কামচাতকা অঞ্চলে এ ধরনের ভূতাত্ত্বিক কার্যকলাপ সক্রিয় থাকায় এলাকাটি বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।
এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে কামচাতকা উপদ্বীপের উপকূলীয় এলাকায় ৮.৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামিতে একটি উপকূলীয় গ্রামের কিছু অংশ সমুদ্রে তলিয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।
সাম্প্রতিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি আবারও ওই অঞ্চলের ভূমিকম্পের ঝুঁকিকে সামনে এনেছে। যদিও এবার সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়নি, তবু এ ধরনের ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং স্থানীয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।
ভূমিকম্পের মাত্রা ছাড়াও এর গভীরতা, উৎপত্তিস্থল থেকে জনবসতির দূরত্ব এবং স্থানীয় অবকাঠামোর সক্ষমতা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। তাই শুধু মাত্রার ভিত্তিতে কোনো ভূমিকম্পে কী পরিমাণ ক্ষতি হবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।


