দুর্গাপূজার ছুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশের সব তফশিলি ব্যাংক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অন্যদিকে, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা তিন দিন ব্যাংকগুলোর নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। অতিরিক্ত সরকারি ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা পাঁচ দিনের অবকাশ পাবেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (এসডিএডি) মো. আব্দুল মান্নান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ৭ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে ব্যাংকের ছুটির সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর শনিবার ব্যাংক খোলা রেখে ছুটির সমন্বয় করা হবে।
সাধারণত শনিবার দেশের ব্যাংকগুলোতে নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনার ফলে ওই দিন স্বাভাবিক কার্যক্রম চলবে। ফলে যেসব গ্রাহকের ব্যাংকে সরাসরি গিয়ে লেনদেন, হিসাবসংক্রান্ত কাজ কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁরা শনিবার সেই সুযোগ পাবেন।
২০ থেকে ২২ অক্টোবর ব্যাংক বন্ধ
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর দেশের সব তফশিলি ব্যাংকে নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এই তিন দিনের মধ্যে ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি, ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি এবং ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত নির্বাহী আদেশের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে গত ৭ অক্টোবর দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক দিনের অতিরিক্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এর ফলে আগে থেকে নির্ধারিত ছুটির সঙ্গে আরও এক দিন যুক্ত হয়। তিন দিনের সরকারি ছুটির পর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা পাঁচ দিন ছুটি উপভোগ করবেন।
এই দীর্ঘ ছুটির কারণে গ্রাহকদের ব্যাংকিং কার্যক্রমে সাময়িক বিরতি তৈরি হবে। তাই জরুরি লেনদেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া কিংবা ব্যাংকের শাখায় উপস্থিত হয়ে সেবা নেওয়ার প্রয়োজন থাকলে গ্রাহকদের আগেই পরিকল্পনা করে নেওয়া সুবিধাজনক হবে। বিশেষ করে ছুটির আগে যেসব কাজের জন্য ব্যাংকের কর্মীদের সহায়তা প্রয়োজন, সেগুলো নির্ধারিত কর্মদিবসের মধ্যেই সম্পন্ন করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা যেতে পারে।
বন্দর এলাকায় সীমিত সেবা চালু রাখার নির্দেশ
সাধারণ ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংক শাখা এবং বুথগুলোতে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবা চালু রাখতে হবে।
এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে ব্যাংকগুলো। ছুটির কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত জরুরি আর্থিক কার্যক্রম যাতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে অর্থ পরিশোধ, বাণিজ্যিক লেনদেন এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ব্যাংকিং সেবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দীর্ঘ ছুটির সময় এসব কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও বাণিজ্যিক লেনদেনে প্রভাব পড়তে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এলাকাগুলোতে সীমিত ব্যাংকিং সেবা চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ছুটির সময়ে কোন শাখায় কী ধরনের সেবা পাওয়া যাবে, তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর নির্ভর করবে।
জনস্বার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির সঙ্গে ব্যাংকের কর্মসূচির সমন্বয় করা হয়েছে, অন্যদিকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ সময় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে ছুটির প্রভাব পড়ে। ব্যাংকের ক্ষেত্রেও ছুটির সময়সূচি পরিবর্তিত হওয়ায় গ্রাহক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর শনিবার দেশের সব তফশিলি ব্যাংকে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলবে। এরপর ২০ থেকে ২২ অক্টোবর নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এলাকার নির্ধারিত শাখা ও বুথে সীমিত সেবা চালু রাখার ব্যবস্থা থাকবে।


